Bangla News Dunia, বাপ্পাদিত্য:- জেরক্স সেন্টারের আড়ালে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির চক্র । গত কয়েকদিন ধরে উত্তর 24 পরগনার মিনাখাঁর বকচোরা এলাকা থেকে এমনই অভিযোগ আসছিল পুলিশের কাছে । অবশেষে অভিযান চালিয়ে ভুয়ো আধার কার্ড চক্রের পর্দা ফাঁস হল । এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম বাকিবুল্লাহ ও মাতিন গাজী । দু’জনই জেরক্স সেন্টারের আড়ালে ভুয়ো আধার কার্ড চক্রের কারবার ফেঁদে বসেছিলেন বলে অভিযোগ । টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে চলত এই কারবার । পুলিশি অভিযানে জেরক্স সেন্টার থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন এবং বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ । এর পিছনে বড় কোনও চক্রের যোগ থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের । সেই কারণে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করছেন বসিরহাট জেলা পুলিশের কর্তারা ।
দেশের আধার ও ভোটার কার্ড অনায়াসে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাতে চলে যাচ্ছে । এই অভিযোগ ঘিরে মাঝে মধ্যেই সরগরম হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি । বিশেষ করে পঞ্চায়েত এলাকায় শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদতে এই কারবার ফুলেফেঁপে উঠেছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে নিশানাও করে থাকে গেরুয়া শিবির । যদিও সেই অভিযোগ কখনই মানতে চায়নি শাসক শিবির ।
সম্প্রতি, উত্তর 24 পরগনার স্বরূপনগরের বাঙলানি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে এক বাংলাদেশী তরুণীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ ।ধৃত ওই তরুণীর কাছ থেকে মেলে ভারতের সচিত্র পরিচয়পত্র । তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, ধৃত তরুণীর আসল নাম অঙ্কিতা । অবৈধভাবে কাঁটাতার পেড়িয়ে সে এই দেশে ঢুকে স্বরূপনগরে বসবাস করছিল । স্থানীয়দের সন্দেহ এড়াতে পরিচিত এক আত্মীয়কে মা-বাবাও সাজিয়ে ছিল সে ।যদিও এত কিছুর পরও শেষ রক্ষা হয়নি । পুলিশি অভিযানে সে ও তার পরিচিত আত্মীয় ধরা পড়ে যায় ৷ এরই মধ্যে এবার মিনাখাঁয় ভুয়ো আধার কার্ড চক্রের হদিস পেল পুলিশ ।

জেরক্স সেন্টারের আড়ালে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির চক্র
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের একটি দল আচমকা হানা দেয় বাকিবুল্লাহ ও মাতিনের জেরক্স সেন্টারে । পুলিশ দেখে হতভম্ব হয়ে যান তাঁরা । এরপরই দু’জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় থানায় । সেখানে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ জেরক্সের দোকানটিতেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
সূত্রের খবর, জেরক্সের দোকানে এলাকার লোকজনের পাশাপাশি অচেনা লোকের ভিড় লেগে থাকত সবসময় । এই নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশের কাছে খবর যায় । সেই মতো পুলিশের দল অভিযান চালায় সেখানে । আর তাতেই মেলে সাফল্য । এই নিয়ে বসিরহাট জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, “এই চক্রের নেপথ্যে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । তদন্ত চলছে । কাউকেই রেয়াত করা হবে না ।”
এই বিষয়ে মফিজউদ্দিন মণ্ডল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এখানে লোকে আধার কার্ড তৈরি করতে আসত । আধার কার্ড সংশোধনের কাজও হত । সবটাই চলত টাকার বিনিময়ে । সবাই জানত সঠিক পদ্ধতিতে এই কারবার চলছে । পুলিশ অভিযান চালাতেই বেরিয়ে এসেছে আসল তথ্য ।সাধারণ গ্রাহকের পক্ষে তো এসব জানা সম্ভব নয় ৷ এখানে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি হচ্ছে কি না, কী করে জানবে তাঁরা ? এসব আধার কার্ড তো বাংলাদেশিদের হাতেও চলে যেতে পারে । তাই, পুলিশের উচিত এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া ।”
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে । স্থানীয় বিজেপি নেতা জয়ন্ত মণ্ডল বলেন, “অলিগলিতে আধার ও ভোটার কার্ড তৈরির নামে এই সমস্ত সেন্টার গজিয়ে উঠেছে ৷ তার বিরুদ্ধে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত । রাজ্যজুড়েই আধার কার্ডের জাল চক্র ছড়িয়ে পড়ছে । এটা ভয়ংকর । এর পিছনে শাসকদলের মদত না-থাকলে এই চক্রের রমরমা কারবার হতে পারে না । পুলিশ এই বেআইনি কারবার বন্ধ করতে আরও উদ্যোগ হোক, সেটাই চাই আমরা ।”
বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুরেশ মণ্ডল বলেন, “তৃণমূল কখনও বেআইনি কাজে প্রশ্রয় দেয় না । আগামী দিনেও দেবে না । এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই । প্রশাসনের উপর আমরা আস্থাশীল । পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে । দু’জনকে গ্রেফতারও করেছে । আইন আইনের পথে চলবে । তৃণমূল দল তাতে হস্তক্ষেপ করবে না ।”
আরও পড়ুন:- উত্তরবঙ্গ-সিকিমের ৩ অফবিট ডেস্টিনেশন ঘোরার সুযোগ মাত্র ১৫০০ টাকায়।
আরও পড়ুন:- মুখ্যমন্ত্রীর নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুকথা পোস্ট করে শাস্তির মুখে চুঁচুড়ার ব্যক্তি, কি লিখেছিলেন ? দেখুন














