ডিএ মামলার শুনানি আজ সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শুরু হয়েছিল এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে পর্যন্ত রাজ্য সরকার তাদের বক্তব্য পেশ করেছে। আজকের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ROPA 2009। রাজ্য সরকার তাদের যুক্তিতে মূলত ROPA 2009-এর উপর জোর দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে রাজ্যপাল সংবিধানের ৩০৯ ধারা অনুযায়ী এই নিয়ম তৈরি করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে।
আরও পড়ুন : FD, RD এর থেকে বেশি সুদ ! এলআইসি জীবন লক্ষ পলিসি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
রাজ্য সরকারের মূল যুক্তিগুলি হল:
- ROPA 2009-এর ভিত্তি: রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে ROPA 2009 রাজ্যপালের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে, যা সংবিধানের ৩০৯ ধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের চাকরির বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই নিয়মের ৯ নম্বর ধারায় রাজ্যপালকে কর্মচারীদের পরিষেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে নিয়ম তৈরির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- ROPA-তে পারিশ্রমিকের সংজ্ঞা: রাজ্য সরকার আরও উল্লেখ করেছে যে ROPA 2009-এ “বিদ্যমান পারিশ্রমিক” (existing emoluments) বলতে মূল বেতন এবং মহার্ঘ বেতনকে বোঝানো হয়েছে এবং মহার্ঘ ভাতা প্রদানের নিয়মগুলিও সেখানে নির্দিষ্ট করা আছে।
- SAT এবং হাইকোর্টের নির্দেশিকার বিরুদ্ধে প্রশ্ন: রাজ্য প্রশ্ন তুলেছে যে রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (SAT) এবং তারপর কলকাতা হাইকোর্ট কীভাবে এই প্রতিষ্ঠিত নিয়মগুলি পরিবর্তন করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে, বিশেষ করে যখন মহার্ঘ ভাতা বিতরণের জন্য রাজ্যের নিজস্ব নীতি রয়েছে। SAT বিশেষভাবে রাজ্যের প্রধান সচিবকে AICPI (সর্বভারতীয় গ্রাহক মূল্য সূচক) এর উপর ভিত্তি করে ডিএ-র জন্য নীতি নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিল।
আদালতের পক্ষ থেকে রাজ্যকে প্রশ্ন করা হয় যে তাদের ডিএ নীতি এবং AICPI-ভিত্তিক নীতির মধ্যে মূল পার্থক্য কী। এর জবাবে, রাজ্য তাদের ডিএ বিতরণের পদ্ধতিকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করে এবং সময়ের সাথে সাথে প্রদত্ত বিভিন্ন শতাংশের ডিএ-র উল্লেখ করে, যা ২% থেকে ১৬% পর্যন্ত ছিল। তবে, মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে পর্যন্ত, রাজ্য সরকার বিচারকদের কাছে তাদের ডিএ নীতি এবং AICPI-এর মধ্যে মূল পার্থক্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর শুনানি আবার শুরু হবে এবং সন্ধ্যার দিকে আরও বিশ্লেষণের আশা করা হচ্ছে।














