নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসেছেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার এই তৃণমূল বিধায়ক। এবার নিজের ও স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হলেন জীবনকৃষ্ণ। ইডি সূত্রে খবর, জীবন এবং তাঁর স্ত্রী টগরি সাহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েক দফায় ৪৬ লক্ষেরও বেশি টাকা জমা পড়েছে, যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিধায়কের ব্যাংক নথি যাচাই করে দেখছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আধিকারিকেরা।
সোমবার সাতসকালে আন্দির গ্রামে জীবনকৃষ্ণর বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সেই সময় বাড়িতেই ছিলেন বিধায়ক। বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ইডির উপস্থিতি টের পেতেই পিছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তাঁকে বাড়িতে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন ইডির ৫ আধিকারিক। পরে জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করে ইডি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর এই চারমাসে জীবন এবং তাঁর স্ত্রী টগরি সাহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েক দফায় ৪৬ লক্ষেরও বেশি টাকা জমা পড়েছে, যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে ইডি। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে টগরির অ্যাকাউন্টে। বিধায়ক ও তার স্ত্রী দুজনেই সাধারণ সরকারি কর্মচারি। বেতন ছাড়া তাঁদের অন্য আয়ের উৎস নেই বলেই ইডি সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে মাত্র চার মাসের মধ্যে কী ভাবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা এল, তা নিয়ে সন্দেহ জাগে তদন্তকারীদের মনে। এই প্রসঙ্গে টগরির দাবি, তাঁর স্বামীই এই টাকা জমা করেছেন। এই লক্ষ লক্ষ টাকার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।
সূত্রের খবর, ২০১৯ সালে দু’দফায় জীবনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন সঞ্জিত মণ্ডল নামে এক চাকরিপ্রার্থী। এ ছাড়া দীপক দাস ১২ লক্ষ টাকা, নবীন মণ্ডল ১ লক্ষ টাকা, রানা মণ্ডল দুই দফায় ৮ লক্ষ টাকা, অমিত বিশ্বাস ১ লক্ষ টাকা, আরিফ ইকবাল ৯৫ হাজার টাকা এবং প্রণয়চন্দ্র বিশ্বাস তিনি দফায় পাঠিয়েছেন ১২ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ২০২২ সালে দীপককে ৫ লক্ষ টাকা বিধায়ক ফেরত দিয়েছিলেন বলেও দাবি তদন্তকারীদের। এছাড়াও বিধায়ক নিজের নামে এবং অন্য বেশ কয়েক জনের নামে সম্পত্তি (জমি এবং বাড়ি) কিনেছেন। কেনা এই সম্পত্তিগুলির বেশির ভাগই নগদে কেনা হয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর। এই সম্পত্তিগুলির বিষয়েও জীবনকৃষ্ণকে জেরা করেছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, সোমবারই গ্রেপ্তারের পর জীবনকৃষ্ণকে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসে ইডি। কলকাতায় নগর দায়রা আদালতে পেশ করে ছ’দিনের জন্য তাঁকে নিজেদের হেপাজতে নেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার ইডির তরফে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরকে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণের গ্রেপ্তারির কথা।














