জমি কেনা বেচার ক্ষেত্রে নতুন পরিবর্তন আনল সরকার, জমি সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Bangla News Dunia, Pallab : আপনি কি জমি কেনাবেচা করবেন বা ভবিষ্যতে আপনাকে স্বপ্ন রয়েছে সুন্দর একটি জমি কিনবেন বা বিক্রি করবেন। তাহলে আগে থেকে সতর্ক হয়ে যান সরকারের তরফ থেকে নতুন নিয়ম আনা হয়েছে এই নিয়ম না জানলে আপনি জমি কিনতে বা বেচতে পারবেন না। এবার জমি কেনা বেচার ক্ষেত্রে এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য আনা হয়েছে নতুন করে কঠোর নিয়ম। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে জমির মালিকানা রেজিস্ট্রি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। এর ফলে এতদিন পর্যন্ত এই কাজটি কাগজপত্র, অফিসে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো, দালালের মাধ্যমে কাজ করানো এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। তাই একটি জমি কেনা বা বেচার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতো। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এই পুরোনো প্রক্রিয়াকে বদলে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এখন থেকে জমির রেজিস্ট্রি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে। এর ফলে আর কোন জালিয়াতি হবে না এবং খুব সহজে এবং স্বচ্ছ ভাবে এবং খুব কম সময়ে আপনি জমি রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু নিয়মের পরিবর্তন।

নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে। আপনার যদি ভবিষ্যতের জমি বিক্রি করার বা কেনার ইচ্ছা থাকে তাহলে আগে থেকে আপনার এই বিষয়গুলো জেনে রাখা দরকার। সরকারের দাবি, এতে সাধারণ মানুষের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই দুর্নীতি ও জালিয়াতিও অনেকাংশে কমে আসবে। বর্তমান দেখা যাচ্ছে দিনের পর দিন জালিয়াতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। একজনের জমি অন্যজন দখল করে নিচ্ছে বা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিবাদ লেগেই রয়েছে। এবার এই নিয়মের ফলে আর এই সমস্ত কোন সমস্যার সমাধান থাকবে না আপনার যদি পাশের বাড়ির কারো সঙ্গে বা জমি সংক্রান্ত কোনো বিবাদ অন্যের সঙ্গে থেকে থাকে তাহলে সেই সমস্যার এবার সমাধান ঘটবে।

কেন এই পরিবর্তন আনা হল?

ভারতে বিগত কয়েক বছরে ডিজিটালাইজেশনের বিপ্লব ঘটেছে। ভারত দিনের পর দিন ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় রূপান্তরিত হচ্ছে। ব্যাংকিং থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই অনলাইন সেবা পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের হাতে। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি এখনও অনেকটাই পুরোনো ধাঁচের নিয়মে চলছিল। তাই জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে এবং জমি সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মের পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে। এর ফলে আর আপনাকে রেজিস্ট্রেশন অফিসে গিয়ে লম্বা লাইন দিতে হবে না বা দালালের উপর নির্ভরশীল করে থাকতে হবে না এবং দুর্নীতির পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। এর ফলে সময় সাশ্রয় হবে অনেকটাই।

এসব সমস্যার সমাধানেই আনা হয়েছে ডিজিটাল জমি রেজিস্ট্রির নতুন নিয়ম। এর ফলে মানুষের অধিকার রক্ষা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সরকারি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা সহজ হবে।

জমি রেজিস্ট্রির নতুন নিয়ম ২০২৫: প্রধান পরিবর্তন

১. অনলাইন রেজিস্ট্রেশন

এখন থেকে সমস্ত নথি অনলাইনে আপলোড করা যাবে। এতদিন পর্যন্ত আপনাকে অফলাইনের মাধ্যমে সমস্ত কাজ করতে হতো কিন্তু এখন আর অফলাইনে কোন কাজ করা যাবে না। আগে যেখানে মানুষকে দিনের পর দিন রেজিস্ট্রার অফিসে যেতে হতো, এখন বাড়িতে বসেই করা যাবে প্রক্রিয়ার প্রায় ৮০% কাজ। আপনি আপনার জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সমস্ত কাজ বাড়িতে বসেই করে নিতে পারবেন এজন্য আপনাকে বারবার রেজিস্ট্রেশন অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না।

২. আধার কার্ড লিঙ্কিং

প্রতিটি জমি মালিকানার সঙ্গে আধার কার্ড বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক থাকতে হবে না হলে সমস্যায় পড়বেন। বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে মালিকানা সঠিকভাবে নিশ্চিত হবে। এর ফলে প্রত্যেকটি ব্যক্তির জমি আধার কার্ডের সঙ্গে লিংক করা থাকবে তাই ভবিষ্যতে আর কোন সমস্যা হবে না বা এতে জাল জমি বা বেনামি সম্পত্তির উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।

৩. ভিডিও রেকর্ডিং

ক্রেতা-বিক্রেতার জমি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিডিও করে রাখা হবে। তাই ভবিষ্যতে যদি এই নিয়ে কোন সমস্যা হয় তাহলে অফিস থেকে আপনি সরাসরি ভিডিও রেকর্ডিং ডাউনলোড করে কোর্টে পেস্ট করলে সরাসরি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ হলে এই ভিডিও হবে প্রমাণ হিসেবে কাজ করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

৪. অনলাইন পেমেন্ট

এখন আর জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় অফলাইনে পেমেন্ট চলবে না। রেজিস্ট্রি ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি এখন অনলাইনে দেওয়া যাবে UPI, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা নেট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে। নগদ অর্থ নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। ফলে দুর্নীতি কমবে এবং স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত হবে। এর ফলে লেনদেনের অরিজিনাল এবং সঠিক তথ্য প্রমাণ থাকবে সরকারের কাছে আর কেউ জালিয়াতি করতে পারবে না বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য কেউ বেশি টাকা ধার্য করতে পারবে না।

ধাপে ধাপে জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

১. সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করুন।
২. জমির কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন।
৩. অনলাইনে ফি প্রদান করুন (UPI/কার্ড/নেট ব্যাংকিং)।
৪. সরকারি আধিকারিকরা নথি অনলাইনে যাচাই করবেন।
৫. একটি নির্দিষ্ট তারিখে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের জন্য অফিসে যেতে হবে।
৬. আধার যাচাই ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর রেজিস্ট্রার ডিজিটাল স্বাক্ষর করবেন।
৭. অবশেষে, জমির ডিজিটাল মালিকানার সার্টিফিকেট আপনার হাতে পৌঁছে যাবে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন