বিকট শব্দ। ঝাঁঝালো ধোঁয়া। আর আতঙ্কের চিৎকার। ঠিক এভাবেই বুধবার দুপুরে কেঁপে উঠল দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের ম্যাক্সমুলার পথের আবাসিক এলাকা। ঘনবসতি এলাকায় বাড়ির মধ্যেই চলছিল ফায়ার এক্সটিংগুইশার রিফিলিংয়ের কাজ। তখনই আচমকাই ঘটে যায় বিস্ফোরণ। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হন টেকনিশিয়ান দেবরাজ সোম। তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে গান্ধী মোড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশপাশের বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। শব্দ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুবার অনুরোধ সত্ত্বেও বাড়ির ভেতরে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বন্ধ করেননি বাড়িরমালিক।
ঠিক যে বাড়িতে এদিন দুপুরে বিস্ফোরণ ঘটেছে, পাশের বাড়ির এক গৃহকর্ত্রী ইন্দ্রানী সেন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমি তখন বাথরুমে ছিলাম। তখনই আচমকাই ব্লাস্ট হয়। আমার বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে যায়। আতঙ্কে আমরা কি করব বুঝে উঠতে পারিনি। পরে আমার বাড়ির পরিচারিকা এসে বলে, পাশের বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে। একজন যুবক জখম হয়েছে। পরে আহত ঐ যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এভাবে রোজগার করার নামে গোটা পাড়া আজ প্রাণ হাতে করে বাস করছে।’ এই ঘটনার পর জখম যুবকের সহকর্মী আজাদ খান দাবি করেন, ফায়ার এক্সটিংগুইশারটি পুরনো ছিল। নাইট্রোজেন ভরার সময় অতিরিক্ত চাপে ফেটে যায়। দেবরাজবাবুর হাত ও পেটে গুরুতর চোট লেগেছে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘনবসতি আবাসিক এলাকায় কি এই ধরনের কাজকর্মের ছাড়পত্র ছিল? কিভাবে বাড়ির ভিতরে চলছিল রিফিলিংয়ের কাজ? প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? যদি বিস্ফোরণ হত অক্সিজেন বা গ্যাস সিলিন্ডার, তাহলে কি স্রেফ একজন? গোটা পাড়ার মানুষদের জীবন সংশয়ের মুখে পড়ত? এলাকার বাসিন্দাদের দাবী, অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নইলে আগামীবার হয়তো শুধুই কাঁচ ভাঙবে না, জীবনও হয়তো যাবে। তখন তার দায় কে নেবে ? এদিকে, পুলিশ জানায়, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।














