100 days work: পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটল। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (MGNREGA) পুনরায় চালু করার বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকেই বহাল রাখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ের ফলে, কেন্দ্রীয় সরকারকে বাংলার বকেয়া টাকা মেটাতে হবে এবং রাজ্যে পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি শুরু করার পথ প্রশস্ত হল।
কেন্দ্রীয় সরকার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
মামলার প্রেক্ষাপট এবং রাজনৈতিক বিতর্ক
২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে। বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ আটকে দিয়েছে। তাদের মতে, এটি বাংলার মানুষকে বঞ্চনা করার একটি প্রয়াস।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের যুক্তি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করে অন্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। এই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেই কেন্দ্র টাকা বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল। এই ইস্যুটি নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল।
কলকাতা হাই কোর্টের যুগান্তকারী নির্দেশ
এই অচলাবস্থার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজুর সমিতি (PBKMS) কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম-এর ডিভিশন বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেয়। আদালত জানায়, এই প্রকল্পকে “চিরকালের জন্য হিমঘরে ফেলে রাখা” যায় না।
আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়:
- ১ অগস্ট থেকে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ পুনরায় শুরু করতে হবে।
- যারা অবৈধভাবে বা ভুয়ো নামে মজুরি পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
- কিন্তু যারা প্রকৃত কাজ করেছেন, তাদের বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং একটি সীমারেখা টানতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিলমোহর
কলকাতা হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের রায়কেই চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করে। এই রায়ের ফলে, রাজ্যে প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা ১০০ দিনের কাজ আবার শুরু হতে চলেছে। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় যে দুর্দশা এবং শ্রমিকদের স্থানান্তরণের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে এখন রাজ্যের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে, যা বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।














