Warning: exif_imagetype(/wp-content/themes/jannah/assets/images/google-news.svg): Failed to open stream: No such file or directory in /home/u842153353/domains/banglanewsdunia.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 3338

Warning: file_get_contents(/wp-content/themes/jannah/assets/images/google-news.svg): Failed to open stream: No such file or directory in /home/u842153353/domains/banglanewsdunia.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 3358

TET 2022 Case: টেট ২০২২ ভুল প্রশ্ন মামলা: এক্সপার্ট কমিটিকে পার্টি করে হাইকোর্টে নতুন পিটিশন, বাড়ছে চাপ

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

TET 2022 Case: ২০২২ সালের প্রাথমিক টেট (Primary TET 2022) পরীক্ষার ভুল প্রশ্ন ও উত্তর সংক্রান্ত আইনি জটিলতা যেন কাটছেই না। এবার এই মামলায় যুক্ত হলো এক নতুন মোড়। পরীক্ষার্থীদের একাংশ কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে জমা পড়া এক্সপার্ট কমিটির রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন একটি রিট পিটিশন (Writ Petition) দাখিল করেছেন। এই নতুন মামলার সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে সরাসরি এক্সপার্ট কমিটিকে একটি পক্ষ বা ‘পার্টি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ

২০২২ সালে অনুষ্ঠিত টেট পরীক্ষায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এবং প্রশ্নপত্রের মুদ্রণ বা প্রিন্টিং ভুল নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি আদালতে গড়ালে, কলকাতা হাইকোর্ট প্রশ্নের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য একটি এক্সপার্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস অপেক্ষার পর ওই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, এত সময় নেওয়ার পরেও যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে, তা অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে দেওয়া রায়ে সন্তুষ্ট না হয়েই তাঁরা পুনরায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এক্সপার্ট রিপোর্টের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগসমূহ

নতুন রিট পিটিশনে এক্সপার্ট কমিটির পেশ করা রিপোর্টের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীরা একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মতে রিপোর্টটি পক্ষপাতদুষ্ট এবং পেশাদারিত্বের অভাব স্পষ্ট। অভিযোগগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

  • দীর্ঘসূত্রিতা ও অসম্পূর্ণতা: দীর্ঘ ১৫ মাস সময় নিয়েও কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা পরীক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
  • একাধিক উত্তরের সমস্যা: যেসব প্রশ্নে একাধিক উত্তর সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কিংবা প্রশ্নটিই ভুল ছিল, রিপোর্টে সেগুলোর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা সঠিক সমাধান দেওয়া হয়নি।
  • প্রিন্টিং ভুলের উপেক্ষা: প্রশ্নপত্রে ছাপার ভুল বা প্রিন্টিং মিস্টেক থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থীদের কোনো প্রকার সুরাহা (Relief) দেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
  • স্বচ্ছতার অভাব: টাইপ করা রিপোর্টের মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় হাতে লেখা নোট এবং ওভাররাইটিং (Overwriting) লক্ষ্য করা গেছে। একটি অফিশিয়াল রিপোর্টে এমন কাটাকুটি বা হাতে লেখা সংযোজন এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

স্বাভাবিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘনের অভিযোগ

পিটিশনার বা আবেদনকারীদের প্রধান আইনি যুক্তি হলো ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’ বা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন। তাঁদের দাবি, সিঙ্গেল বেঞ্চে যখন এক্সপার্ট কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছিল, তখন সেই রিপোর্ট যাচাই-বাছাই (Scrutiny) করার বা তার ওপর কোনো পাল্টা বক্তব্য রাখার সুযোগ পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়নি। রিপোর্টটি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ না দিয়েই রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, যা আইনত সঠিক নয় বলে তাঁরা মনে করছেন।

মামলার পক্ষসমূহ (Parties Involved)

এই নতুন মামলায় যাদের রেসপন্ডেন্ট বা বিবাদী পক্ষ করা হয়েছে, তাদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

ক্রমিক নং পক্ষ (Respondents)
পশ্চিমবঙ্গ সরকার (State of West Bengal)
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কমিশনার
পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE)
পর্ষদের সভাপতি ও সচিব
এক্সপার্ট কমিটি (ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে গঠিত)

বর্তমান পরিস্থিতি ও দাবি

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ইতিমধ্যেই নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু ভুল প্রশ্ন মামলার চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থী এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। পিটিশনারদের দাবি, অবিলম্বে ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্টটি বাতিল করে তাঁদের খাতা পুনরায় সঠিক মূল্যায়ন করা হোক এবং প্রাপ্য নম্বর প্রদান করা হোক। মামলাটি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে ‘আর্জেন্ট ম্যাটার’ বা জরুরি বিষয় হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পরীক্ষার্থীরা তাকিয়ে আছেন আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন