SSC Case Update: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি (SSC) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ফের নতুন মোড়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানিতে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে এবং মামলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনকে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিশেষ করে ফ্রেশার এবং অভিজ্ঞ প্রার্থীদের নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে পরিসংখ্যান তলব করা হয়েছে।
কমিশনকে ডেটা বা পরিসংখ্যান জমার নির্দেশ
বিচারপতি অমৃতা সিনহা কমিশনের আইনজীবীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই মামলার চূড়ান্ত রায়দানের আগে আদালতের কাছে সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য বা ডেটা পরিষ্কারভাবে থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রার্থী যাতে বঞ্চিত না হন এবং রায় যাতে ত্রুটিমুক্ত হয়, সেই লক্ষ্যে কমিশনকে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে:
- মোট কতজন ফ্রেশার (Fresher) বা নতুন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন?
- কতজন অভিজ্ঞ (Experienced) বা বর্তমানে কর্মরত প্রার্থী রয়েছেন?
- কতজন ফ্রেশার সুযোগ পাচ্ছেন এবং কতজন অভিজ্ঞ প্রার্থী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তার তুলনামূলক হিসাব।
- বিষয় (Subject) এবং ক্যাটাগরি (Category) অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ তালিকা।
আদালতের মতে, একটি স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ তালিকা ছাড়া এই জটিল মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়।
২০১৬ বনাম ২০২৫ রুলস: আইনজীবীর যুক্তি
মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী প্রতীক ধর মহাশয় ২০১৬ এবং ২০২৫ সালের নিয়োগ বিধির বা রুলসের (Rules) মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি তুলে ধরেন। তিনি একটি তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে দেখান কেন অভিজ্ঞদের ১০ নম্বর বাড়তি সুবিধা দেওয়া অযৌক্তিক নয়। নিচে সেই পার্থক্যের ছকটি দেওয়া হলো:
| বিষয় (Parameter) | ২০১৬ রুলস | ২০২৫ রুলস |
|---|---|---|
| লিখিত পরীক্ষা (Written Test) | ৫৫ নম্বর | ৬০ নম্বর |
| শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা (Teaching Experience) | ছিল না | ১০ নম্বর |
| লেকচার ডেমোনস্ট্রেশন | ছিল না | অন্তর্ভুক্ত হয়েছে |
অ্যাডভোকেট প্রতীক ধরের যুক্তি অনুযায়ী, ফ্রেশাররা সাধারণত তাত্ত্বিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক (Intelligent) দিক থেকে এগিয়ে থাকেন, তাই লিখিত পরীক্ষায় তাঁদের ভালো করার সুযোগ বেশি। অন্যদিকে, যারা অভিজ্ঞ, তাঁদের ‘লাইফ স্কিল’ বা বাস্তব অভিজ্ঞতা বেশি, তাই তাঁদের ১০ নম্বর দেওয়াটা ভারসাম্য বজায় রাখারই অংশ। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ বা ‘আর্টিকেল ১৪’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি শ্রেণিকে (ফ্রেশার ও অভিজ্ঞ) একই পাল্লায় মাপা যায় না।
পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ
সময়ের অভাবে এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলের ব্যস্ততার কারণে এই মামলার বিস্তারিত শুনানি সম্পন্ন হয়নি। সূত্রের খবর:
- ৬ জানুয়ারি ২০২৬: লুবানা পারভীন সহ ১০ নম্বর এক্সপেরিয়েন্স সংক্রান্ত মূল মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি হবে।
- আজ: শুধুমাত্র ওএমআর শিট (OMR Sheet) সংক্রান্ত মৌসুমী ঘোষের মামলাটি শোনা হবে, যেখানে ২০২৫ সালের ওএমআর শিট সম্পূর্ণ প্রকাশ না করার অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশের পর এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এখন তাকিয়ে আছেন কমিশনের পেশ করা রিপোর্টের দিকে। অভিজ্ঞ বনাম ফ্রেশার—এই দ্বন্দ্বে আদালত শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।














