BLO Honorarium Hike: রাজ্যের অগণিত বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের জন্য অবশেষে এল এক বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবং কর্মীদের লাগাতার দাবির মুখে নির্বাচন কমিশন বিএলও কর্মীদের পারিশ্রমিক বা ভাতা একলাফে অনেকটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, কাজের গতি বাড়াতে এবং ডিজিটাল যুগে কর্মীদের সুবিধার্থে আরও কিছু আনুষঙ্গিক ভাতার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মনোজ কুমার আগরওয়ালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই নতুন নির্দেশিকা কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
একনজরে বর্ধিত ভাতার পরিমাণ ও কাঠামো
দীর্ঘদিন ধরেই বিএলও-রা তাদের কাজের চাপ ও দায়িত্বের তুলনায় নগণ্য ভাতার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। সেই অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে কমিশন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। অতীতে যেখানে বিএলও-দের পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ৬,০০০ টাকা, তা পরবর্তী সময়ে বেড়ে ১২,০০০ টাকা হয়েছিল। তবে এবার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করার জন্য অতিরিক্ত ৬,০০০ টাকা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে এখন থেকে বিএলও-রা মোট ১৮,০০০ টাকা ভাতা হিসেবে পাওয়ার যোগ্য হবেন।
| কাজের ধরণ | ভাতার পরিমাণ |
|---|---|
| মূল বা সাধারণ ভাতা | ১২,০০০ টাকা |
| স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) ইনসেনটিভ | ৬,০০০ টাকা |
| সর্বমোট প্রাপ্য ভাতা | ১৮,০০০ টাকা |
টাকা পাওয়ার নিয়ম ও সময়সীমা
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই বর্ধিত ১৮,০০০ টাকা কবে নাগাদ হাতে পাবেন কর্মীরা? কমিশনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই টাকা মাসিক বেতন হিসেবে দেওয়া হয় না। পুরো অর্থবর্ষের শেষে, অর্থাৎ আগামী বছরের মার্চ মাস নাগাদ এই টাকা কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য একটি আবশ্যিক শর্ত রয়েছে—১৮,০০০ টাকার পুরো অঙ্কটি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট বিএলও-কে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
ইন্টারনেটের খরচ বাবদ অতিরিক্ত সুবিধা
বর্তমানে ভোটার তালিকার অধিকাংশ কাজই ডিজিটাল মাধ্যমে বা মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে করতে হয়। এর ফলে কর্মীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ডেটা প্রচুর পরিমাণে খরচ হচ্ছে, যা নিয়ে ক্ষোভ ছিল। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে রাজ্যের সিও (CEO) দপ্তরের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ডিজিটাইজেশন এবং ডেটা আপলোডিং-এর কাজের জন্য বিএলও-দের ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ইন্টারনেট অ্যালাউন্স দেওয়া হোক। এটি কার্যকর হলে কর্মীরা কিছুটা হলেও আর্থিক সুরাহা পাবেন।
কর্মী সংগঠনের প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবতা
এই ঘোষণার পর বিএলও ঐক্যমঞ্চের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল জানিয়েছেন, পারিশ্রমিক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করবে। অতীতে কাজের চাপ ও স্বল্প পারিশ্রমিকের কারণে অনেক কর্মী মানসিক চাপে ভুগতেন, যা এবার কিছুটা কমবে বলে আশা করা যায়।
তবে মুদ্রাস্ফীতি এবং বর্তমান কাজের চাপের নিরিখে অনেকেই মনে করছেন ভাতা ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা হলে তা আরও যুক্তিযুক্ত হতো। বিএলও-রা যেভাবে দিনরাত এক করে নির্ধারিত সময়ের আগেই এনিউমারেশন এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই বর্ধিত পারিশ্রমিক ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে আরও স্বচ্ছতা ও গতি আনবে।














