Primary Teacher Recruitment: প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের! ৬ সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে চাকরি, জানুন বিস্তারিত

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Primary Teacher Recruitment: পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী মোড়। সুপ্রিম কোর্ট ডি.এল.এড (D.El.Ed) ২০২০-২২ শিক্ষাবর্ষের প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ প্রদান করেছে। দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে।

ডি.এল.এড ২০২০-২২ প্রার্থীদের যোগ্যতা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

এই মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ২০২০-২২ ব্যাচের ডি.এল.এড প্রার্থীরা। অভিযোগ ছিল, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ যখন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে, তখন এই প্রার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণের শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট ছিল না। তবে এই বিলম্বের মূল কারণ ছিল পর্ষদের নিজস্ব গাফিলতি, প্রার্থীদের অযোগ্যতা নয়। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে জানিয়েছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় সার্টিফিকেট হাতে না থাকলেও এই প্রার্থীরা চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

বিচারপতি পি.এস. নরসিমা এবং বিচারপতি অতুল এস. চন্দ্রুরকরের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, যেহেতু প্রার্থীদের কোর্সটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, তাই সার্টিফিকেটের অভাবে তাদের বঞ্চিত করা যাবে না। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, পর্ষদের ভুলের মাশুল প্রার্থীরা কেন দেবেন?

নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা ও শূন্যপদের পরিসংখ্যান

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ২০২২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১১,৭৬৫টি শূন্যপদের কথা ঘোষণা করা হয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২০১৪ এবং ২০১৭ সালের টেট (TET) উত্তীর্ণ প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ধাপে ধাপে ৯,৫৩৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ডি.এল.এড এবং এন.আই.ও.এস (NIOS) সংক্রান্ত জটিলতায় বাকি পদগুলিতে নিয়োগ থমকে ছিল।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে অবশিষ্ট শূন্যপদগুলিতে নিয়োগের রাস্তা পরিষ্কার হলো। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • মোট শূন্যপদ: ১১,৭৬৫ টি
  • ইতিমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত: ৯,৫৩৩ জন
  • বর্তমান নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা: প্রায় ২,২৩২ টি

মামলাকারীদের অভিযোগ ও আদালতের কড়া বার্তা

শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী পি.এস. পাটোয়ালিয়া অভিযোগ করেন যে, রাজ্য সরকার ও পর্ষদ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ মানছে না, যা আদালত অবমাননার শামিল। এর উত্তরে পর্ষদের আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত জানান, শূন্যপদের সঠিক হিসাব কষতে সময় লাগার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে, তবে তারা নিয়োগ করতে ইচ্ছুক।

বিচারপতি পি.এস. নরসিমা কড়া ভাষায় জানান, সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দেবে, সরকারকে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। আদালত ৬ সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এবং জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীদের মেধার ভিত্তিতে (Merit-based) প্যানেল তৈরি করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার বা নিয়োগপত্র দিতে হবে। শুধুমাত্র মামলাকারীরাই নন, মেধা তালিকায় থাকা সমস্ত যোগ্য প্রার্থীই এই সুযোগ পাবেন।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • সময়সীমা: আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
  • যোগ্যতা: ডি.এল.এড ২০২০-২২ ব্যাচের প্রার্থীরা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় সার্টিফিকেট না পেলেও যোগ্য।
  • শূন্যপদ: প্রায় ২,২৩২টি পদে নিয়োগ করা হবে।
  • নিয়োগ পদ্ধতি: সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছভাবে প্যানেল তৈরি করে নিয়োগ হবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। চাকরিপ্রার্থীরা এখন পর্ষদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন