Primary School Class 5: রাজ্যে প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণি! ৩২৩৮ স্কুলের তালিকা নিয়ে বিরাট নির্দেশিকা শিক্ষা দপ্তরের

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Primary School Class 5: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো ও পঠনপাঠনের স্তরে বড়সড় রদবদল আনা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার ঘোষণা করল যে, রাজ্যের কয়েক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবার থেকে পঞ্চম শ্রেণি বা Class 5 অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

৩২৩৮টি বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে পরিবর্তন

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সদ্য প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ৩,২৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে পঞ্চম শ্রেণি চালু করা হবে। এতকাল পর্যন্ত রাজ্যের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হত এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার জন্য পড়ুয়াদের উচ্চ প্রাথমিক বা হাইস্কুলে ভর্তি হতে হত। কিন্তু নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে, ওই নির্দিষ্ট ৩,২৩৮টি স্কুলের পড়ুয়ারা তাদের নিজের স্কুলেই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

এই পরিবর্তনটি কার্যকর হবে আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ (Academic Year 2026) থেকে। অর্থাৎ, আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া পড়ুয়ারা এই সুবিধা পাবে। এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়েছে মূলত ‘রাইট অফ চিলড্রেন টু ফ্রি এন্ড কম্পালসারি এডুকেশন অ্যাক্ট’ (RTE Act) বা শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইনের নিয়মাবলী মেনে।

বিবরণ তথ্য
নির্দেশিকা প্রকাশের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
মোট অন্তর্ভুক্ত বিদ্যালয় ৩,২৩৮ টি
নতুন শ্রেণি সংযোজন পঞ্চম শ্রেণি (Class 5)
কার্যকর হওয়ার সময়কাল ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে

প্রশাসনিক তৎপরতা ও ডিপিএসসি-র ভূমিকা

রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা স্তরে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিটি জেলার ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল বা DPSC-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্কুলগুলিতে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ঠিক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের ওপর বর্তাবে।

শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়বে এবং স্কুলছুটের সংখ্যা কমবে। ছোট বয়সে স্কুল পরিবর্তনের ভীতি থেকে শিশুরা মুক্তি পাবে, যা তাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। ২০২৬ সাল থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।

শিক্ষার অধিকার আইন ও প্রাসঙ্গিকতা

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো শিক্ষার অধিকার আইন। এই আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা সুনিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চতুর্থ শ্রেণি পাশ করার পর হাইস্কুলে ভর্তির প্রক্রিয়ায় জটিলতা বা দূরত্বের কারণে অনেক গ্রামীণ পড়ুয়া পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। প্রাথমিক স্তরেই পঞ্চম শ্রেণিকে নিয়ে আসার ফলে সেই সমস্যা অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন