Income Tax Act: ভারতের কর ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫ (Income Tax Act 2025)-এর মাধ্যমে সরকার এমন এক সংস্কার আনতে চলেছে, যা সাধারণ করদাতাদের দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করবে। এতদিন ধরে চলে আসা ‘অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার’ বা মূল্যায়ন বর্ষের ধারণাটি এবার ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিতে চলেছে। তার পরিবর্তে আসছে অনেক বেশি সহজ ও সরল ‘ট্যাক্স ইয়ার’ বা কর বর্ষের ধারণা। কিন্তু ঠিক কী এই পরিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী? আসুন, সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক।
কেন প্রয়োজন হলো এই পরিবর্তনের?
দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় কর ব্যবস্থায় একটি সাধারণ প্রশ্ন ঘুরপাক খেত—কর জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এত জটিল কেন? পুরনো নিয়মে করদাতাদের দুটি ভিন্ন বছরের হিসাব রাখতে হতো: ফিনান্সিয়াল ইয়ার (যে বছর আয় করা হচ্ছে) এবং অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার (যে বছর সেই আয়ের ওপর কর দেওয়া হচ্ছে)। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩-২৪ সালে আয় করলে তার কর নির্ধারণ হতো ২০২৪-২৫ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারে। এই ব্যবধানের ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা প্রথমবার কর দিচ্ছেন, তারা প্রায়শই গুলিয়ে ফেলতেন। ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫ এই জটিলতা কাটিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক জিপিএস নেভিগেশনের মতো স্বচ্ছ ও দিশারি করতে চাইছে।
‘ট্যাক্স ইয়ার’ বনাম ‘অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার’: মূল পার্থক্য
নতুন ‘ট্যাক্স ইয়ার’ ধারণাটি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা। এখানে আপনি যে বছর আয় করবেন, সেই বছরই সেই আয়ের ওপর কর ধার্য হবে। অর্থাৎ, আয়ের বছর এবং করের বছর এখন এক সুতোয় গাঁথা।
- পুরনো নিয়ম (অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার): আয়ের হিসাব ও কর প্রদান হতো পরবর্তী বছরে। এতে সময়ের ব্যবধান থাকত এবং ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ত।
- নতুন নিয়ম (ট্যাক্স ইয়ার): আয় এবং করের সময়কাল একই। এটি রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়ার মতো, যেখানে বিভ্রান্তির কোনো জায়গা নেই।
বেতনভুক ও পেশাদারদের ওপর প্রভাব
এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাবেন বেতনভুক কর্মচারীরা।
- ফর্ম ১৬ ও রিটার্ন ফাইলিং: এখন থেকে ফর্ম ১৬ এবং ট্যাক্স ফাইলিংয়ের সময়কাল একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
- দ্রুত রিফান্ড: করের হিসাব একই বছরে হওয়ার ফলে রিফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- ভুল কমবে: যেহেতু দুটি আলাদা বছরের হিসাব মনে রাখতে হবে না, তাই রিটার্ন ফাইলে ভুলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
ব্যবসায়ী এবং পেশাদারদের জন্যও এটি সুখবর। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন সিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যাশ ফ্লো বা নগদ প্রবাহের সঠিক পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে। অ্যাকাউন্টিং বা হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই সংস্কারের মূলে রয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। আধুনিক ট্যাক্স পোর্টাল এবং অটোমেশন ব্যবস্থার ফলে কর গণনা এখন নিমেষেই সম্ভব। ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫-এর লক্ষ্য হলো ভারতকে এমন এক কর ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়া, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। এটি কেবল তারিখ বা বছরের পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি মানসিকতার পরিবর্তন। এর ফলে করদাতাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং আইনি জটিলতা বা নোটিশের ভয় কমবে।
করদাতাদের এখন কী করণীয়?
যেকোনো নতুন নিয়ম চালু হলে শুরুতে কিছুটা জড়তা থাকে। তাই করদাতাদের উচিত:
১. নতুন নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া।
২. প্রয়োজনে কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
৩. নিজেদের আর্থিক নথিপত্র আপডেট রাখা।
সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলা যায়, পুরনো জটিলতা ঝেড়ে ফেলে একটি স্বচ্ছ এবং নাগরিক-বান্ধব কর ব্যবস্থার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।














