SIR Logical Discrepancy: লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির হিয়ারিং-এর লিস্ট প্রকাশ, কাদের যেতে হবে শুনানিতে? জানুন বিস্তারিত

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

SIR Logical Discrepancy: নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বিশেষ জোর দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) চিহ্নিত করা। অনেক ভোটারের নাম এই তালিকায় উঠে এসেছে এবং শোনা যাচ্ছে যে তাদের শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। কিন্তু কাদের আসলে শুনানিতে যেতে হবে এবং কাদের নথি যাচাই বা ভেরিফিকেশন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী এই পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করছে, তা নিচে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো।

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আসলে কী?

সহজ কথায়, ভোটার ডেটাবেসে তথ্যের কোনো অসংগতি বা অস্বাভাবিকতা থাকলে তাকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বলা হয়। নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট কিছু লজিক বা যুক্তির ভিত্তিতে এই ভুলগুলো ধরে ফেলে। মূলত চারটি প্রধান কারণে একজন ভোটারের নাম এই সন্দেহের তালিকায় আসতে পারে:

  • পারিবারিক লিংকিং-এর আধিক্য: যদি দেখা যায় যে একজন ব্যক্তির সাথে পিতা বা মাতা হিসেবে ৬ জনের বেশি ভোটার লিংক করা আছে, তবে তা সন্দেহের সৃষ্টি করে। সাধারণত ৬ জনের বেশি সন্তান থাকা বর্তমান সময়ে সচরাচর দেখা যায় না বলে কমিশন এটিকে যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত করে।
  • বয়সের অস্বাভাবিক পার্থক্য (কম): বাবা-মায়ের বয়সের সাথে সন্তানের বয়সের পার্থক্য যদি ১৫ বছরের কম হয়, তবে তা লজিক্যালি বা বাস্তবে সম্ভব নয় বলে ধরে নেওয়া হয়।
  • বয়সের অস্বাভাবিক পার্থক্য (বেশি): একইভাবে, যদি বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ৫০ বছরের বেশি হয়, তবে সেটিও যাচাইয়ের তালিকায় চলে আসে।
  • নামের গরমিল: ২০০২ সালের লিগ্যাসি ডেটা বা পুরনো তথ্যের সাথে বর্তমানের ভোটার কার্ডের নাম বা বাবার নামের বানানে বড় কোনো অমিল থাকলে তা ডিসক্রিপেন্সি হিসেবে গণ্য হয়।

যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ও অফিসারদের ভূমিকা

এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএলও (BLO) বা বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা অ্যাপের মাধ্যমে নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। এই নথিগুলো পরবর্তীতে ইআরও (ERO) বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানো হয়। ইআরও স্তরে যাচাইকরণের দুটি প্রধান ধাপ রয়েছে:

১. সরাসরি অনুমোদন (Submit to DO): ইআরও অফিসার যদি দেখেন যে বিএলও-র আপলোড করা নথিপত্র (যেমন আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র) সঠিক এবং ২০০২ সালের ডেটার সাথে বর্তমান তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে, তবে তিনি ফাইলটি সরাসরি ডিও (District Officer) বা জেলা আধিকারিকের কাছে পাঠিয়ে দেন। এক্ষেত্রে ওই ভোটারের আর কোনো শুনানির প্রয়োজন হয় না।

২. শুনানির দিন ধার্য করা (Schedule Hearing): যদি নথিপত্রে কোনো ঘাটতি থাকে, ছবি অস্পষ্ট হয় কিংবা তথ্যের গরমিল সন্দেহজনক মনে হয়, তখনই কেবল ইআরও ‘Schedule Hearing’ অপশনটি বেছে নেন। এর ফলে ওই নির্দিষ্ট ভোটারের নামে একটি নোটিশ তৈরি হয় এবং তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রমাণ দিতে বলা হয়।

শুনানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ইআরও লেভেল পার হওয়ার পরেও ফাইলটি ডিও লেভেলে পুনরায় যাচাই করা হয়। সেখানেও যদি কোনো ভুল ধরা পড়ে, তবে ডিও ফাইলটি আবার ইআরও-র কাছে ফেরত পাঠাতে পারেন। সেক্ষেত্রে ওই ভোটারের নামে নতুন করে শুনানির নোটিশ জারি হতে পারে। তবে যদি ডিও মনে করেন সব ঠিক আছে, তবে তিনি ‘No Objection’ দিয়ে কেসটি নিষ্পত্তি বা ডিসপোজ করে দেন।

সুতরাং, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় নাম থাকা মানেই যে আপনাকে শুনানিতে দৌড়াতে হবে, এমনটা নয়। আপনার জমা দেওয়া নথিপত্র সঠিক থাকলে এবং বিএলও সঠিক তথ্য আপলোড করলে, আপনার ফাইলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনুমোদিত হয়ে যাবে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন