GDP Growth: কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। তার আগেই ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক খবর সামনে এল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে চলেছে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস (NSO) তাদের ‘ফার্স্ট অ্যাডভান্স এস্টিমেটস’-এ জানিয়েছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি ৭.৪ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।
বাজেট প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আসুন দেখে নেওয়া যাক, এই নতুন তথ্যে অর্থনীতির কোন দিকগুলো শক্তিশালী হয়েছে এবং কোথায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ও তার ধরণ
সরকার সাধারণত ১লা ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের আগে এই আগাম অনুমান বা ‘ফার্স্ট অ্যাডভান্স এস্টিমেটস’ প্রকাশ করে। এর ওপর ভিত্তি করেই সরকার আগামী বছরের কর রাজস্ব এবং রাজকোষীয় ঘাটতির হিসাব কষে। এবারের পরিসংখ্যানে দুটি ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে:
- রিয়েল জিডিপি (Real GDP): মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বাদ দিয়ে অর্থনীতির প্রকৃত বৃদ্ধি এই সূচকে মাপা হয়। গত অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫) যেখানে বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫%, সেখানে এ বছর তা বেড়ে ৭.৪% হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অর্থনীতির মজবুত বুনিয়াদকে নির্দেশ করে।
- নমিনাল জিডিপি (Nominal GDP): বর্তমান বাজার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে এই হিসাব করা হয়। গত বছর এটি ৯.৮% ছিল, যা এবার কমে ৮% হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নমিনাল জিডিপি কম কেন?
আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, রিয়েল জিডিপি বাড়লে নমিনাল জিডিপি কমছে কেন? এর মূল কারণ হলো মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ। গত বছর জিনিসপত্রের দাম বা মুদ্রাস্ফীতি বেশি ছিল (৬%-এর ওপরে), তাই নমিনাল জিডিপির অঙ্ক বেশি ছিল। কিন্তু এ বছর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে (২-৪% রেঞ্জে) থাকায় নমিনাল গ্রোথ রেট কম দেখাচ্ছে, যা আসলে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর।
বিভিন্ন সেক্টরের পারফরম্যান্স একনজরে
অর্থনীতির চাকা কতটা সচল, তা বোঝা যায় বিভিন্ন সেক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা দেখে। এবারের পরিসংখ্যানে ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সার্ভিস সেক্টরে বড়সড় উল্লম্ফন দেখা গেছে, তবে কৃষি ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নিচে বিভিন্ন খাতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার দেওয়া হলো:
| সেক্টর (খাত) | বৃদ্ধির হার (অনুমান) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ম্যানুফ্যাকচারিং | ৭% | গত বছরের (৪.৫%) তুলনায় বড় উন্নতি। |
| সার্ভিসেস (সেবা) | ৯.১% | জিডিপির সবচেয়ে বড় অংশ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী বৃদ্ধি। |
| কনস্ট্রাকশন | ৭.১% | অবকাঠামো উন্নয়নের সুফল। |
| কৃষি | ৩.১% | বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে মন্থর। |
অর্থনীতির চালিকাশক্তি: চাহিদা ও বিনিয়োগ
শুধুমাত্র উৎপাদনের দিক নয়, খরচের দিক থেকেও অর্থনীতিতে গতি এসেছে। দেশের মানুষ ও সরকার কীভাবে খরচ করছে, তার ওপর ভিত্তি করে এই বৃদ্ধিকে বিশ্লেষণ করা যায়:
১. ব্যক্তিগত খরচ (Private Consumption): জিডিপির প্রায় ৫৫ শতাংশই আসে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও খরচ থেকে। এই খাতে প্রায় ৭% বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদা বাড়ছে।
২. বিনিয়োগ (Investment): দেশে নতুন কলকারখানা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের হার ৭.৮% বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩. সরকারি ব্যয়: পরিকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি খরচ ৫.২% বাড়তে পারে।
আরবিআই (RBI) এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (ADB) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও ভারতের এই বৃদ্ধির পূর্বাভাসকে সমর্থন করেছে। তাদের মতে, জিএসটি ব্যবস্থার সরলীকরণ এবং ট্যাক্স কমানোর ফলে মানুষের হাতে খরচ করার মতো টাকা (Disposable Income) বেড়েছে, যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে।
ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
যদিও এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, তবুও কিছু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয় অর্থনীতির গতিপথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে:
- বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যে মন্দা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা।
- আমেরিকার সাথে শুল্ক বা ট্যারিফ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
- টাকার মূল্যের ওঠানামা এবং কৃষি ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফলন না হওয়া।
আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী যখন বাজেট পেশ করবেন, তখন এই পরিসংখ্যানগুলোই হবে তাঁর মূল হাতিয়ার। সরকার কীভাবে এই ৭.৪% বৃদ্ধির হারকে ধরে রাখে এবং কৃষি খাতের দুর্বলতা কাটায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।














