কয়লা দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee) সরাসরি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ( Suvendu Adhikari) নাম নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ করলে অবশেষে প্রকাশ্য অভিযোগের প্রমাণ চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি পাঠিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে এ কথা বলে পোস্ট করেন শুভেন্দু। এছাড়াও পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু।
নোটিসে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৮ ও ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কোনও প্রমাণ ছাড়াই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চরিত্রহননের করেছে । অভিযোগ করেন, কয়লা পাচার মামলার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ সেই দাবির সপক্ষে কোনও নথি প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
মূলত তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা আই–প্যাক এর কলকাতার অফিস ও প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার প্রতীক জৈনর বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদে তৃণমূলের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে এদিন শুক্রবার কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল হয়।
জানা গিয়েছে, কয়লা দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি প্রতীক জৈনর বাড়ি ও আই–প্যাক এর অফিসে তল্লাশি চালায়।
ওই ঘটনার প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করেন তৃণমূলেরা। কলকাতার যাদবপুরের , ৮–বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে শেষ হয়। এই প্রতিবাদ মিছিলে মূলে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এছাড়াও অভিনেতা সাংসদ সহ একাধিক রাজনৈতিক পর্যায়ের কর্মীরাও। এরপরে প্রতিবাদ মিছিল শেষ করে হাজরা মোড়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় মমতা বলেন, ‘জগন্নাথের মাধ্যমে টাকা যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে টাকা যায় অমিত শাহের কাছে। শুনুন আপনাদের ভাগ্য ভালো, আমি এখনও চেয়ার আছি বলে ওই পেন ড্রাইভগুলো প্রকাশ্যে আনি না।’ এছাড়াও এদিন এ’ও বলেন ‘আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা রেখে চলি। কিন্তু মনে রাখবেন, লক্ষণের একটা সীমারেখা আছে।’
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলা কথার দাবির প্রমাণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠালেন শুভেন্দু অধিকারী। নোটিশে বলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব নথি ও তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো কথা নয়তো মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দেয় বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বরাবরের মতই বিরোধীরা দাবি করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতিতে জড়িত, এদিন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “এই সমস্ত বিষয় এখন আদালতের এখতিয়ারে চলে এসেছে… এটা দুর্ভাগ্যজনক যে একজন চোরকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মাঠে নেমেছেন…. তাহলে ইডির অভিযান ঘিরে কি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি?














