Family Pension: ফ্যামিলি পেনশন নিয়ে বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের! স্বস্তিতে বিবাহবিচ্ছিন্না মেয়েরা

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Family Pension: কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি ফ্যামিলি পেনশন বা পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে, যা বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে। আদালতের এই নির্দেশ অনুযায়ী, যদি কোনও সরকারি কর্মচারীর জীবদ্দশায় তাঁর মেয়ের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে থাকে, তবে ডিভোর্স চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ওই কর্মচারীর মৃত্যু হলেও, মেয়ে ফ্যামিলি পেনশন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায়টি দিয়েছেন। এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটল এবং বহু ভুক্তভোগী পরিবার নতুন দিশা পেল।

মামলার প্রেক্ষাপট এবং মূল ঘটনা

এই মামলাটি দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের এক প্রয়াত কর্মচারীর পরিবারকে কেন্দ্র করে। ওই কর্মচারী ১৯৮৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যা ফ্যামিলি পেনশনের জন্য আবেদন জানান। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। রেলের যুক্তি ছিল, ওই কন্যার বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি বা চূড়ান্ত নির্দেশ এসেছে তাঁর বাবা-মায়ের মৃত্যুর অনেক পরে। তাই বাবার মৃত্যুর সময় মেয়েকে তাঁর ওপর ‘নির্ভরশীল’ হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়।

রেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই কন্যা সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (CAT)-এর দ্বারস্থ হন। সেখানে তিনি জানান, ১৯৯৫ সালেই তাঁর স্বামী তাঁকে পরিত্যাগ করেছিলেন এবং ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি তাঁর বাবার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তাঁর বাবা বেঁচে থাকাকালীনই বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ২০২৪ সালে ট্রাইব্যুনাল তাঁর পক্ষে রায় দেয় এবং পেনশন চালুর নির্দেশ দেয়।

হাইকোর্টে কেন্দ্রের যুক্তি বনাম আদালতের পর্যবেক্ষণ

ট্রাইব্যুনালের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন্দ্র সরকার (রেল কর্তৃপক্ষ) কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে। কেন্দ্রের আইনজীবী যুক্তি দেন, নিয়ম অনুযায়ী পেনশনপ্রাপকের জীবদ্দশায় বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হলে তবেই মেয়ে পেনশনের হকদার হন। যেহেতু এই ক্ষেত্রে ডিভোর্স ডিক্রি বাবার মৃত্যুর পর এসেছে, তাই তিনি এই সুবিধা পেতে পারেন না।

তবে হাইকোর্ট এই যুক্তি মানতে চায়নি। আদালত বিস্তারিত তথ্যে নজর দিয়ে দেখে:

  • ওই মহিলাকে তাঁর স্বামী ১৯৯৫ সালে পরিত্যাগ করেছিলেন।
  • ১৯৯৬ সালে, অর্থাৎ বাবার জীবদ্দশায়, স্বামীর পক্ষ থেকে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
  • মহিলা নিজে ২০১৪ সালে (বাবার মৃত্যুর পর) বিবাহবিচ্ছেদের আরেকটি মামলা করেন, কিন্তু মূল বিবাদ শুরু হয়েছিল বাবার জীবদ্দশাতেই।
  • বিচারিক আদালত আগেই নিশ্চিত করেছিল যে ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ওই মহিলা পরিত্যক্তা হিসেবে বাবার কাছেই থাকছিলেন।

কীসের ভিত্তিতে এল এই রায়?

কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই প্রকাশিত একটি ‘অফিস মেমোরেন্ডাম’-এর ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে রায় প্রদান করে। ওই নিয়মে স্পষ্ট বলা আছে, যদি পেনশনপ্রাপক বা তাঁর স্বামী/স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহবিচ্ছেদের মামলা আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে পরবর্তীকালে (মৃত্যুর পরে) ডিভোর্স চূড়ান্ত হলেও, ওই কন্যাকে ফ্যামিলি পেনশন দেওয়া হবে।

আদালত এই মামলাটিকে অন্য একটি পূর্ববর্তী মামলার (জয়ন্তী চ্যাটার্জি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া) থেকে আলাদা করেছে। পূর্ববর্তী ওই মামলায় বাবার জীবদ্দশায় কোনও ডিভোর্স কেস ফাইল করা হয়নি এবং নির্ভরতা প্রমাণ করা যায়নি। কিন্তু বর্তমান মামলায় মিতা সাহা (কর্মকার) প্রমাণ করতে পেরেছেন যে বাবার জীবদ্দশায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবং তিনি বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

  • মামলার নাম: ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া বনাম মিতা সাহা (কর্মকার)
  • মামলা নম্বর: W.P.C.T. 36 of 2025
  • ফলাফল: কেন্দ্রের আবেদন খারিজ, মেয়ের পেনশন বহাল।

পরিশেষে, হাইকোর্ট সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশকেই বহাল রাখে এবং রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় নিয়ম মেনে ফ্যামিলি পেনশন প্রদান করার জন্য। এই রায় ভবিষ্যতে এই ধরণের জটিলতায় পড়া হাজার হাজার নারীর জন্য একটি আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন