HS Exam 2026: পরীক্ষক ও কর্মীদের ‘অন ডিউটি’ নিয়ে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ সংসদের, জানুন বিস্তারিত ছুটি

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

HS Exam 2026: পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশাসনিক ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া মসৃণ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাধারণত পরীক্ষা শুরুর অনেকটা আগেই সংসদ পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষাকর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে দেয়। সেই ধারা বজায় রেখে, গত ১৩ই জানুয়ারি সংসদ একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যেখানে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সাথে যুক্ত সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মীদের ‘অন ডিউটি’ (On Duty) বা কর্তব্যরত ছুটির দিনক্ষণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নির্দেশিকাটি রাজ্যের সমস্ত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে তাঁরা আগেভাগেই নিজেদের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে পারবেন।

প্রধান পরীক্ষকদের (Head Examiner) দায়িত্ব ও ছুটির বিভাজন

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রধান পরীক্ষক বা হেড এক্সামিনারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একজন হেড এক্সামিনার সর্বোচ্চ ২১ দিন অন ডিউটি সুবিধা পাবেন। এই দিনগুলি বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। কাজের স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষকদের সুবিধার্থে নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

কাজের বিবরণ সর্বোচ্চ দিন সংখ্যা
কাউন্সিল মিটিং ১ দিন
উত্তরপত্র সংগ্রহ (Lifting) ১ দিন
পরীক্ষকদের মধ্যে খাতা বিতরণ ১ দিন
খাতা জমা নেওয়া ২ দিন
স্ক্রুটিনি বা যাচাইকরণ ৫ দিন
অনলাইনে নম্বর আপলোড ৫ দিন
কাউন্সিলে উত্তরপত্র জমা (Lifting Submission) ১ দিন
পিপিআর/পিপিএস (তৎকাল সহ) ৫ দিন

পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনিযারদের জন্য বরাদ্দ সময়

শুধুমাত্র প্রধান পরীক্ষক নন, সাধারণ পরীক্ষক বা থিওরি পেপার এক্সামিনারদের জন্যও নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। খাতা দেখা এবং জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার জন্য তাঁরা মোট ৩ দিন অন ডিউটি পাবেন। এর মধ্যে একদিন খাতা সংগ্রহের জন্য এবং বাকি দু’দিন খাতা জমা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, স্ক্রুটিনিযারদের (Scrutineer) ক্ষেত্রে দায়িত্ব কিছুটা বেশি হওয়ায় তাঁদের অন ডিউটির সময়সীমা সর্বোচ্চ ১০ দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরপত্র স্ক্রুটিনি করার জন্য ৪ দিন এবং প্রয়োজনে নম্বর আপলোডিং ও পিপিআর/পিপিএস ডিউটির জন্য আরও ৩ দিন করে সময় পাওয়া যাবে। তবে নির্দেশিকায় সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, সাধারণ স্ক্রুটিনির জন্য অন ডিউটি যেন কোনোভাবেই ৫ দিনের বেশি না হয়।

প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও নমিনিদের ছুটি

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে টিচার মেম্বার এবং কাউন্সিল নমিনিদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

  • টিচার মেম্বার: পরীক্ষার দিনগুলিতে ১২ দিন, কাউন্সিলের মিটিংয়ের জন্য ২ দিন এবং জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠকের জন্য ২ দিন—সব মিলিয়ে মোট ১৬ দিন অন ডিউটি পাবেন।
  • কাউন্সিল নমিনি: এঁরা পরীক্ষার দিনগুলিতে ১২ দিন এবং সেন্টার কমিটির মিটিংয়ের জন্য ১ দিন সহ মোট ১৩ দিন অন ডিউটি সুবিধা পাবেন।

বিশেষ নিয়মাবলী ও ছুটির শর্ত

সংসদের এই নির্দেশিকায় ছুটির দিন এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে:
১. ছুটির দিনের ডিউটি: যদি নির্ধারিত কোনো কাজের দিন রবিবার, বা কোনো জাতীয় ও রাজ্য ছুটির দিন (National/State Holiday) পড়ে, তবে শিক্ষক-কর্মীরা তার পরিবর্তে ‘স্পেশাল লিভ’ বা বিশেষ ছুটি প্রাপ্য হবেন।
২. অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ: সাধারণ পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনিযারদের ছুটির অনুমোদন দেবেন সংশ্লিষ্ট হেড এক্সামিনার। অন্যদিকে, হেড এক্সামিনারদের ছুটির অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব ডেপুটি সেক্রেটারি বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির ওপর ন্যস্ত থাকবে।
৩. হেড এক্সামিনারের ক্ষমতা: কাজের প্রয়োজনে বা বোর্ডের ক্লাসের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে হেড এক্সামিনাররা চাইলে অন্য তারিখেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ডেকে কাজ করাতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী অন ডিউটি প্রদান করতে পারেন।

এই সুসংহত নির্দেশিকা ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন