PF Withdrawal UPI: এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর প্রায় ৮ কোটি সদস্যের জন্য একটি অত্যন্ত স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে এবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তোলার প্রক্রিয়াও হতে চলেছে অত্যন্ত সহজ এবং দ্রুত। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক এমন একটি অত্যাধুনিক ব্যবস্থা তৈরি করছে যার মাধ্যমে পিএফ সদস্যরা ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা UPI ব্যবহার করেই তাঁদের জমানো টাকা তুলতে পারবেন।
বর্তমানে পিএফ-এর টাকা তোলার জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি এবং জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা শীঘ্রই ইতিহাসের পাতায় চলে যেতে চলেছে।
ইউপিআই ব্যবস্থায় কীভাবে মিলবে সুবিধা?
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-এর এপ্রিলের মধ্যেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পিএফ থেকে টাকা তোলার জন্য অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। এমনকী ‘অটো-সেটেলমেন্ট’ মোড ব্যবহার করলেও টাকা একাউন্টে ঢুকতে অন্তত তিন দিন সময় লেগে যায়।
তবে নতুন ব্যবস্থায় এই অপেক্ষার অবসান ঘটবে। স্মার্টফোনে ইউপিআই পিন (UPI PIN) দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়ে যাবে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় পিএফ ফান্ডের একটি অংশ ‘সুরক্ষিত’ বা ফ্রোজেন রাখা হবে এবং বাকি বড় অংশটি সদস্যরা প্রয়োজনমতো ইউপিআই-এর মাধ্যমে নিজের একাউন্টে ট্রান্সফার করতে পারবেন। একবার টাকা ব্যাঙ্কে চলে এলে, তা এটিএম থেকে তোলা যাবে বা ডিজিটাল পেমেন্টের কাজে ব্যবহার করা যাবে।
বিভিন্ন প্রয়োজনে টাকা তোলার নিয়মাবলী
চাকরিজীবীদের জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পিএফ-এর টাকা বড় সহায় হয়ে দাঁড়ায়। কোন প্রয়োজনে কত টাকা তোলা যায় এবং তার শর্তগুলো কী কী, তা নিচের তালিকায় বিস্তারিত দেওয়া হলো:
| প্রয়োজন | চাকরি করার সময়সীমা | কত টাকা তোলা যাবে? |
|---|---|---|
| বাড়ি বা জমি কেনা | টানা ৫ বছর চাকরি করতে হবে। | বাড়ি কেনার জন্য ২৪ মাসের এবং বাড়ি তৈরি ও কেনার জন্য ৩৬ মাসের বেতনের সমান টাকা তোলা যাবে। |
| চিকিৎসা | কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। | কর্মচারীর নিজস্ব কন্ট্রিবিউশন ও সুদ অথবা ৬ মাসের বেতন (যেটা কম হবে)। |
| গৃহঋণ শোধ | টানা ৩ বছর চাকরি করতে হবে। | মোট জমানো টাকার ৯০% পর্যন্ত। |
| বাড়ি মেরামত | বাড়ি তৈরির ৫ বছর পর থেকে। | ১২ মাসের বেতনের সমান অর্থ। |
| বিয়ে | টানা ৭ বছর চাকরি করতে হবে। | সুদসমেত কর্মচারীর নিজস্ব কন্ট্রিবিউশনের ৫০%। |
কাজ হারালে টাকা তোলার নিয়ম
চাকরি চলে গেলে বা বেকারত্বের সময় পিএফ ফান্ড লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে। নিয়ম অনুযায়ী:
- চাকরি যাওয়ার এক মাস পর মোট পিএফ ব্যালেন্সের ৭৫% টাকা তোলা যাবে।
- বাকি ২৫% টাকা চাকরি যাওয়ার দুই মাস পর তোলা সম্ভব।
আয়করের নিয়ম কী বলছে?
পিএফ তোলার ক্ষেত্রে আয়করের বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। যদি কোনো কর্মচারী কোনো সংস্থায় টানা ৫ বছর কাজ করার পর টাকা তোলেন, তবে তাঁকে কোনো আয়কর দিতে হয় না। মজার বিষয় হলো, এই ৫ বছর এক কোম্পানিতেই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। একাধিক কোম্পানিতে কাজ করলেও, যদি মাঝখানের বিরতি বাদ দিয়ে মোট সময়কাল ৫ বছর বা তার বেশি হয়, তবেই এই কর ছাড় পাওয়া যাবে।
বর্তমানে ইপিএফও (EPFO) তাদের সফটওয়্যারের কিছু কারিগরি ত্রুটি বা ‘গ্লিচ’ সারানোর কাজ করছে। এই সমস্যাগুলো মিটে গেলেই আগামী দিনে কোটি কোটি গ্রাহক সরাসরি ইউপিআই-এর মাধ্যমে নিমেষেই টাকা পাওয়ার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।














