এবার ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র তালিকা প্রকাশ করতে হবে, শুনানিতে বিএলএ উপস্থিত থাকতে পারবে: সুপ্রিম কোর্ট

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।  সোমবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল গোটা প্রক্রিয়াটা আরও স্বচ্ছ হতে হবে।  কোনও ভোটার যেন সুযোগের অভাবে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকে।  এছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন শীর্ষ আদালত।  এ দিন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট।  যদিও এর আগে মানতে নারাজ ছিল নির্বাচন কমিশন।

অপরদিকে, এসআইআর শুনানিতে রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্ট বা BLA দের উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  অর্থাৎ, যে সব ভোটার শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন, তাঁরা চাইলে আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী এমনকি BLA-1 , BLA-2 দেরও সাহায্য নিতে পারবেন।  শুধু তাই নয়, ভোটারের অনুপস্থিতিতেও থাকলে বিএলএ-রা নথি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন।  তবে সেক্ষেত্রে উক্ত ভোটারের স‌ই বা আঙুলের ছাপসহ একটি অথরিটি চিঠি থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, তথ্যগত অসঙ্গতির নামে সাধারণ মানুষকে যেন অযথা হয়রানি করা না হয় সে বিষয়েও সতর্কতা করেন কমিশনকে এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

শুনানিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১.২৫ কোটি নোটিশ জারি করা হয়েছে।  এই নোটিশ মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত ‘ম্যাপড’, ‘আনম্যাপড’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’।  ‘ম্যাপড’ হল সেই সব ভোটার, যাঁদের নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।  ‘আনম্যাপড’ হল যাঁদের নাম সেই পুরনো তালিকায় নেই।  কিন্তু সবচেয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বিভাগটি নিয়ে।

এ দিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে শুনানির জন্য পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খোলার কথা বলেন যাতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা করতে পারে সহয়তা কেন্দ্র গুলো।  এ ছাড়া পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ করতে হবে যদিও মুখ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে পূর্ব ঘোষণা হয়েছে ২ হাজার বেশি মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ নিয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব নিতে বলেছে রাজ্য সরকারকে।  লজিক্যাল ডিসপেরিয়ান্সি তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানো যাবে।  এবং শুনানির সময় বা আপত্তি জানানোর সময়ে কোনও ভোটারের কাছ থেকে নথি গ্রহণ করা হলে, অবশ্যই তার রিসিভ কপি বা রশিদ দিতে হবে।  ফলে পরে নথি জমা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।  সাধারণ মানুষ অকারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই আদালত এই নির্দেশ দেয়।
মূলত, এসআইআর শুনানি সহ যাবতীয় কার্যকলাপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন