Income Tax Budget: আসন্ন ১লা ফেব্রুয়ারি পেশ হতে চলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক—সবারই নজর থাকে অর্থমন্ত্রীর ঝুড়িতে কী চমক থাকছে তার দিকে। ২০২৫ সালের বাজেটে নতুন কর কাঠামো বা New Tax Regime-এর আওতায় চাকুরিজীবীদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছিল এবং জিএসটি কমানোর ফলে পরোক্ষভাবে সুরাহা মিলেছিল। তবে এবারের বাজেটে ফিক্সড ডিপোজিট (FD) এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।
সরকারি কোষাগারের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে ঢালাও কর ছাড়ের সম্ভাবনা কম থাকলেও, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আমজনতাকে স্বস্তি দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে বলে খবর। আসুন দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে পারে।
ফিক্সড ডিপোজিট ও সুদের ওপর কর ছাড়ের ভাবনা
ব্যাঙ্কে টাকা রেখে যে সুদ পাওয়া যায়, তা অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্তদের আয়ের মূল উৎস। বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সেই সুদের ওপর কর বা TDS কেটে নেওয়ায় হাতে আসা অর্থের পরিমাণ কমে যায়।
- প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা: শোনা যাচ্ছে, ফিক্সড ডিপোজিট এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত সুদের ওপর কর ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই সুবিধা সম্ভবত সবার জন্য নয়, মূলত সিনিয়র সিটিজেন বা প্রবীণ নাগরিকদের জন্যই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
- বর্তমান নিয়ম কী বলে? বর্তমানে পুরনো কর কাঠামোতে (Old Tax Regime) সাধারণ নাগরিকদের সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত (ধারা 80TTA) এবং প্রবীণ নাগরিকদের ফিক্সড ডিপোজিট ও সেভিংস মিলিয়ে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত (ধারা 80TTB) কর ছাড় পাওয়া যায়। বাজেটে এই সীমা বাড়ানো হবে কি না, বা নতুন কর কাঠামোতে এটি অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
পিপিএফ (PPF) ও সঞ্চয়ের সীমা বৃদ্ধি
দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PPF অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এর বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা বছরে ১.৫ লক্ষ টাকায় আটকে আছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের বাজেটে পিপিএফ-এর এই বিনিয়োগের সীমা বাড়ানোর ঘোষণা হতে পারে। এর ফলে দুটি সুবিধা হবে—প্রথমত, সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে এবং দ্বিতীয়ত, মানুষ কর সাশ্রয়ের জন্য আরও বেশি টাকা জমাতে উৎসাহিত হবেন।
স্বাস্থ্যবীমায় কর ছাড়ের আশা
চিকিৎসা খরচ যেভাবে আকাশছোঁয়া হচ্ছে, তাতে স্বাস্থ্যবীমা বা হেলথ ইনস্যুরেন্স এখন বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনীয়তা। সরকার চাইছে সাধারণ মানুষ যাতে আরও বেশি করে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আসেন। সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়ামের ওপর কর ছাড়ের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। এটি করা হলে একদিকে যেমন করদাতাদের সুরাহা হবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতের নিরাপত্তাও জোরদার হবে।
নতুন কর কাঠামো বনাম পুরনো নিয়ম
এখানে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। সরকার বর্তমানে New Tax Regime বা নতুন কর কাঠামোকে জনপ্রিয় করতে চাইছে, যেখানে সাধারণত কোনো প্রকার বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের ওপর কর ছাড় (Deduction) পাওয়া যায় না। ফিক্সড ডিপোজিট বা পিপিএফ-এ ছাড়ের ঘোষণা যদি আসে, তবে তা কীভাবে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হবে, সেটাই দেখার বিষয়। গতবারের বাজেটের ধারা বজায় রেখে এবারও হয়তো খুব বড় কোনো ‘উপহার’ নাও মিলতে পারে, তবে নিরাশ হওয়ারও কারণ নেই। সব উত্তর মিলবে ১লা ফেব্রুয়ারি।














