Budget 2026: আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে পেশ হতে চলেছে ২০২৬ সালের সাধারণ বাজেট। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ষষ্ঠবারের মতো বাজেট পেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই বাজেট ঘিরে মধ্যবিত্ত এবং চাকুরিজীবীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে, ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া (ICAI)-এর পক্ষ থেকে কর কাঠামো সহজ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। এবারের বাজেটে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে বিবাহিত দম্পতিদের জন্য ‘যৌথ কর ব্যবস্থা’ বা Joint Taxation-এর প্রস্তাব।
বিবাহিত দম্পতিদের জন্য ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’-এর প্রস্তাবনা
বাজেট ২০২৬-এর প্রাক্কালে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে প্রস্তাবটি উঠে এসেছে, তা হলো বিবাহিত দম্পতিদের জন্য একটি ঐচ্ছিক ‘যৌথ কর ব্যবস্থা’ চালু করা। ICAI-এর মতে, বর্তমানে একক উপার্জনকারী পরিবার এবং দম্পতি যেখানে দুজনেই উপার্জন করেন, তাঁদের করের বোঝায় বিশাল বৈষম্য রয়েছে।
সহজ কথায়, যদি একটি পরিবারে শুধুমাত্র স্বামী বা স্ত্রী উপার্জন করেন, তবে তাঁদের করের বোঝা সেই পরিবারের তুলনায় বেশি হয় যেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সমানভাবে আয় করেন এবং দুজনেই পৃথকভাবে করমুক্ত আয়ের সুবিধা পান। এই বৈষম্য দূর করতেই এই নতুন মেকানিজমের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য:
- ঐচ্ছিক ব্যবস্থা: দম্পতিরা চাইলে তাঁদের আয় একত্রিত করে একটি যৌথ রিটার্ন ফাইল করতে পারেন অথবা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আলাদাভাবে ফাইল চালিয়ে যেতে পারেন।
- দ্বিগুণ ছাড়: একক আয়ের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলিকে সাহায্য করতে বেসিক এক্সেম্পশন লিমিট বা করমুক্ত আয়ের সীমা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন: যৌথ ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রেও স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের জন্য স্বতন্ত্রভাবে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সুবিধা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
জয়েন্ট ট্যাক্সেশনের প্রস্তাবিত কর কাঠামো
ICAI দম্পতিদের জন্য যে বিশেষ স্ল্যাবের প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিচে দেওয়া হলো:
| আয়ের পরিমাণ (টাকা) | প্রস্তাবিত করের হার |
|---|---|
| ৮,০০,০০০ পর্যন্ত | নিল (Nil) |
| ৮,০০,০০১ থেকে ১৬,০০,০০০ | ৫% |
| ১৬,০০,০০১ থেকে ২৪,০০,০০০ | ১০% |
| ২৪,০০,০০১ থেকে ৩২,০০,০০০ | ১৫% |
| ৩২,০০,০০১ থেকে ৪০,০০,০০০ | ২০% |
| ৪০,০০,০০১ থেকে ৪৮,০০,০০০ | ২৫% |
| ৪৮,০০,০০০-এর উপরে | ৩০% |
মধ্যবিত্তের স্বস্তি ও আয়কর স্ল্যাবে পরিবর্তনের আশা
মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার খরচ সামলাতে হিমশিম খাওয়া মধ্যবিত্তরা আয়কর স্ল্যাবে বড় পরিবর্তনের আশায় রয়েছেন। বর্তমানে নতুন কর কাঠামো বা New Tax Regime-এ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত (রিবেট সহ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)। অন্যদিকে পুরনো কাঠামোতে এই সীমা মাত্র ২.৫ লক্ষ টাকা।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা এবং সাধারণের দাবি মেনে নতুন কর কাঠামোতে বেসিক এক্সেম্পশন লিমিট বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হতে পারে। এছাড়া মেট্রো শহরগুলির বর্তমান বাড়ি ভাড়ার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাড়ি ভাড়া ভাতা বা HRA-এর নিয়মেও পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিমা ও অন্যান্য ডিডাকশন
নতুন কর কাঠামোকে ডিফল্ট অপশন করা হলেও, সেখানে ৮০সি (80C) বা স্বাস্থ্য বিমার (80D) মতো জনপ্রিয় ছাড়গুলি পাওয়া যায় না। এটি করদাতাদের মধ্যে একটি বড় অসন্তোষের কারণ।
- স্বাস্থ্য বিমা: ICAI এবং অন্যান্য সংস্থার জোরালো সুপারিশ হলো, চিকিৎসা খরচের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে নতুন কর কাঠামোতেও স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়ামের উপর কর ছাড় দেওয়া উচিত। বর্তমানে এটি আর বিনিয়োগ নয়, বরং প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বৃদ্ধি: চাকুরিজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বর্তমানের ৫০,০০০ টাকা (বা সংশোধিত ৭৫,০০০ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ১,০০,০০০ টাকা করার জোরদার দাবি উঠেছে।
শেয়ার বাজার ও লগ্নিকারীদের প্রত্যাশা
ব্যক্তিগত আয়করের বাইরেও শেয়ার বাজারের লগ্নিকারীরা ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স নিয়ে আশাবাদী। সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) এবং লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস (LTCG) করের হারের যৌক্তিকীকরণের দাবি রয়েছে। পাশাপাশি, ডিভিডেন্ডের উপর ‘ডবল ট্যাক্সেশন’ বা দ্বৈত কর ব্যবস্থা—যেখানে কোম্পানি লাভের উপর কর দেয় আবার শেয়ারহোল্ডার ডিভিডেন্ড পাওয়ার সময় কর দেন—তা সমাধানেরও আর্জি জানানো হয়েছে।
বাজেট পেশ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী কাদের ঝুলিতে কতটা স্বস্তি দেন, সেটাই এখন দেখার।
Disclaimer: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো প্রকার আর্থিক পরামর্শ নয়। বিনিয়োগ বা কর সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য একজন নথিভুক্ত আর্থিক উপদেষ্টার (Financial Advisor) পরামর্শ নিন।














