Sangrami Joutha Mancha: ৩ বছরের লড়াই! ডিএ ও শূন্যপদ নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের, জানুন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Sangrami Joutha Mancha: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় রচনা করে তিন বছর পূর্ণ করল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলন। শহীদ মিনারের পাদদেশে রোদ-বৃষ্টি-ঝড় এবং হাজারো প্রশাসনিক চাপ উপেক্ষা করে সরকারি কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে অনড় রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রমাগত উপেক্ষা এবং বাধার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, আন্দোলনকারীদের মনোবল বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি বলে দাবি মঞ্চের।

দাবির মূল ভিত্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি

শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থানরত কর্মচারীদের আন্দোলন কেবল একটি বা দুটি দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁদের দাবিপত্র এখন অনেক বেশি বিস্তৃত এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি হলো:

  • বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA): সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে।
  • বিপুল শূন্যপদ পূরণ: রাজ্য প্রশাসনে প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে, যা দ্রুত স্বচ্ছতার সাথে পূরণ করার দাবি জানানো হয়েছে।
  • কর্মীদের স্থায়ীকরণ: বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক এবং অনিয়মিত কর্মীদের চাকরির স্থায়ীকরণ করতে হবে।
  • পেনশন ও অন্যান্য: অবসরপ্রাপ্তদের ন্যায্য পেনশন প্রদান এবং বদলি নীতি সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান।

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অমানবিক কাজের বোঝা

এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে এই মুহূর্তে ১ লক্ষেরও বেশি পদ খালি পড়ে রয়েছে। এই কর্মী সংকটের ফলে একেকজন কর্মীকে জোর করে ২ থেকে ৩টি করে সেন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর বিনিময়ে তাঁরা কোনো অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। কাজের এই বিশাল বোঝা তাঁদের ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

আন্দোলনের অর্জন ও নেতৃত্বের বক্তব্য

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতম মুখ ভাস্কর ঘোষের মতে, তাঁরা যখন আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তখন এই লড়াই যে এত দীর্ঘ হবে তা কল্পনাতীত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার মানুষের অধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। তবে তাঁদের লাগাতার আন্দোলনের ফলেই রাজ্য সরকার কর্মীদের বন্ধ হয়ে যাওয়া ডিএ-র ৩ শতাংশ দিতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি ৬ লক্ষ শূন্যপদ এবং স্থায়ীকরণের বিষয়টি নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন, যদিও ওবিসি সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে থমকে আছে।

ভাস্কর বাবু আরও জানান, একমাত্র তাঁদের মঞ্চই সাহসের সাথে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। তবে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে অধিকার আদায়ের বিষয়ে সচেতনতার অভাব এবং অন্যান্য আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যৎ রূপরেখা

গত তিন বছরে আন্দোলনকারীদের ওপর একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশি বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবুও কর্মচারীরা দমে যাননি। বরং তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, রাজ্য সরকারের অধীনে চাকরি করা কি কোনো অপরাধ? আগামী দিনে সরকারের সমস্ত “চোখরাঙানি” উপেক্ষা করে আন্দোলন আরও তীব্রতর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন