IRCTC Tatkal Rules: ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তৎকাল টিকিট পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে চিরকালই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে উৎসবের মরসুম বা ছুটির দিনে কনফার্ম টিকিট যেন সোনার পাথরবাটি। তবে এবার সেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) তাদের বুকিং প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ যাত্রীরা অনেক সহজেই টিকিট কাটতে পারবেন।
কড়া নজরদারি ও অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন
রেলওয়ের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে তৎকাল টিকিট কাটার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগে ভুয়ো প্রোফাইল বা ফেক আইডি ব্যবহার করে অসাধু উপায়ে টিকিট কেটে নেওয়ার যে প্রবণতা ছিল, তা রুখতে এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- বাধ্যতামূলক যাচাইকরণ: টিকিট বুকিংয়ের আগে যাত্রীর সম্পূর্ণ পরিচয় যাচাই বা কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
- অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়করণ: আইআরসিটিসি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল আইডি যদি ভেরিফায়েড না থাকে, তবে তৎকাল বুকিংয়ের সময় ওই অ্যাকাউন্টগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। অর্থাৎ, ভেরিফিকেশন ছাড়া টিকিট কাটার সুযোগ আর থাকছে না।
অত্যাধুনিক ‘বট-রোধী’ প্রযুক্তি
তৎকাল টিকিট বুকিং শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সমস্ত সিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর মূল কারণ ছিল বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা ‘বট’-এর ব্যবহার। রেল কর্তৃপক্ষ এবার এই জালিয়াতি রুখতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে।
বুকিং উইন্ডো খোলার প্রথম কয়েক মিনিট বিশেষ ‘বট-রোধী প্রযুক্তি’ সক্রিয় থাকবে। এই প্রযুক্তির কাজ হলো:
১. স্বয়ংক্রিয় তথ্য পূরণকারী টুল বা অটো-ফিল স্ক্রিপ্টগুলি শনাক্ত করা।
২. অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে চলা বট কার্যকলাপ ধরে ফেলা এবং সঙ্গে সঙ্গে তা ব্লক করে দেওয়া।
৩. সার্ভারের ওপর কৃত্রিম চাপ কমিয়ে আসল যাত্রীদের লগ-ইন করার সুযোগ করে দেওয়া।
যাত্রীদের জন্য স্বস্তি
নতুন এই নিয়মাবলী মেনে চললে সাধারণ মানুষের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) এবং সাধারণ স্লিপার ক্লাসের তৎকাল টিকিট নির্ধারিত সময়েই বুকিংয়ের জন্য খুলবে। তবে প্রযুক্তির এই নতুন ঢালের কারণে দালাল বা এজেন্টরা আর অবৈধ সুবিধা নিতে পারবে না। ফলে প্রয়োজনের সময় প্রকৃত যাত্রীরাই এখন টিকিটে অগ্রাধিকার পাবেন এবং গোটা প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও জনমুখী হয়ে উঠবে।














