Welfare Schemes: লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প নিয়ে বড় বার্তা! টাকা দেওয়া বন্ধ হবে? কী বলছে আর্থিক সমীক্ষা?

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Welfare Schemes: পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র ভারতজুড়ে বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বা ‘ওয়েলফেয়ার স্কিম’ চালু রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মতো প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে সম্প্রতি সামনে আসা আর্থিক সমীক্ষা বা ইকোনমিক সার্ভে-তে এই ধরণের প্রকল্পগুলি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। সেখানে সরাসরি প্রকল্প বন্ধ করার কথা বলা হয়নি, তবে সেগুলির কার্যপদ্ধতি এবং অর্থের ব্যবহার নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নগদ অর্থের বদলে মানব সম্পদ উন্নয়ন

আর্থিক সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র নগদ টাকা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার বদলে সরকারের ফোকাস ঘোরানো উচিত মানব পুঁজি বা ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল’ তৈরির দিকে। এর অর্থ হলো, সরাসরি টাকা না দিয়ে সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। যখন একটি দেশের নাগরিক শিক্ষিত এবং সুস্থ হন, তখন তিনি নিজেই দেশের সম্পদে পরিণত হন।

কর্মসংস্থান ও দক্ষতার সঙ্গে সংযোগ

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো অর্থের বিনিময়ে দক্ষতা বৃদ্ধি। সমীক্ষায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি সাহায্যকে কর্মসংস্থান এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত করা হোক। অর্থাৎ, কাউকে শুধু বসে টাকা না দিয়ে, তাকে কোনো কাজ শেখানো বা ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’-এর সুযোগ দেওয়া উচিত। এর ফলে সেই ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। ওয়ার্ক-বেস্ট সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিকাঠামো বা ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সমীক্ষায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের উচিত রাজস্ব ব্যয়ের (Revenue Expenditure) চেয়ে মূলধনী ব্যয় বা ‘ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার’-এর দিকে বেশি নজর দেওয়া। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, হাসপাতাল বা স্কুল তৈরির মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়নে টাকা খরচ করলে তা দীর্ঘমেয়াদী সুফল দেয়। এটি সরাসরি দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা যুবশক্তির ব্যবহার

ভারতের জন্য বর্তমান সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখন আমাদের দেশে যুব সম্প্রদায়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। একেই বলা হয় ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’। এই বিপুল যুবশক্তিকে যদি এখনই সঠিক প্রশিক্ষণ না দিয়ে শুধুমাত্র নগদ অনুদানের উপর নির্ভরশীল করে রাখা হয়, তবে ভারত একটি বিশাল সুযোগ হারাবে। তাই সমীক্ষার সারমর্ম হলো— তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে তারা ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পগুলি বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে না, বরং এই বিপুল অর্থরাশিকে এমনভাবে ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে যাতে তা সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার বদলে মানুষের স্থায়ী উপকারে লাগে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন