7th Pay Commission: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী বাজেট অধিবেশনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকার কর্মীদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং সরকারি কাজে তাঁদের ভূমিকার কথা মাথায় রেখে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই ঘোষণা কর্মচারীদের মহলে খুশির হাওয়া নিয়ে এলেও, এর বাস্তবায়ন এবং সময়সীমা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নও উঠে এসেছে।
নতুন বেতন কমিশনের সময়সীমা ও কার্যকারিতা
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে চালু থাকা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। এর ঠিক পরেই, অর্থাৎ নীতিগতভাবে ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার কথা (Notional Effect)। অর্থাৎ, খাতা-কলমে নতুন বেতন কাঠামো এই তারিখ থেকেই ধরা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির বাস্তব চিত্র ও বকেয়া প্রসঙ্গ
যদিও ১লা জানুয়ারি ২০২৬ তারিখটিকে শুরুর সময় হিসেবে ধরা হয়েছে, কিন্তু কর্মচারীদের হাতে সেই বর্ধিত বেতন বাস্তবে কবে পৌঁছাবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছেই। অতীতের ‘রোপা’ (ROPA) বা পে কমিশনের অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে দেখা যায়, পে কমিশন গঠন, রিপোর্ট জমা দেওয়া এবং সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের মধ্যে অনেকটা সময়ের ব্যবধান থাকে।
- আর্থিক বাস্তবায়ন (Actual Effect): পে কমিশন রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর, অর্থ দপ্তর কবে থেকে ‘ক্যাশ বেনিফিট’ বা বর্ধিত বেতন নগদে দেওয়া শুরু করবে, সেটাই আসল দেখার বিষয়।
- বকেয়া বা Arrears: ২০২৬-এর জানুয়ারি থেকে যদি নতুন নিয়ম চালু হয় এবং বাস্তবে সেটি কার্যকর হতে দেরি হয়, তবে মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া টাকা কর্মচারীরা পাবেন কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই নতুন এই বিধির নাম ‘রোপা ২০২৭’ হবে নাকি আরও পরে কার্যকর হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রশাসনিক গতির ওপর।
পরবর্তী প্রশাসনিক ধাপসমূহ
বাজেটে শুধুমাত্র কমিশন গঠনের সদিচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। এর পরবর্তী পর্যায়ে বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে:
১. রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পে কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করা হবে।
২. কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। অতীতে যেমন অভিরূপ সরকার বা অন্যরা দায়িত্বে ছিলেন, এবারও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের এই দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।
৩. নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কমিশন তাদের সুপারিশ বা রিপোর্ট অর্থ দপ্তরে পেশ করবে।
৪. সবশেষে, অর্থ দপ্তরের ছাড়পত্র মেলার পরই নতুন বেতন কাঠামো বলবৎ হবে।
আপাতত সরকারি কর্মচারীদের চোখ থাকবে সেই সরকারি গেজেট বা বিজ্ঞপ্তির দিকে, যেখানে এই পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত সময়সূচি উল্লেখ থাকবে।














