DA Arrears Update: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) প্রাপ্তির লড়াই এক নতুন মোড় নিল। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ না পাওয়ায় এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল কনফেডারেশন (Confederation of State Government Employees)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবকে আদালত অবমাননার নোটিশ
গত ৫ই ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় বা সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছিল। সেই রায়ে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে বা “তাৎক্ষণিক প্রভাব” (Immediate Effect) দিয়ে মিটিয়ে দিতে হবে। মলয় বাবু জানান, আদালতের এই রায়ের কপি ওই দিন বিকেলেই রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং অর্থ সচিবের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, যাতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।
কিন্তু আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সরকার সেই বকেয়া মেটায়নি। কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে নিয়ম মেনে সাত দিন অপেক্ষা করা হয়। এরপরও কোনো সদর্থক ভূমিকা না দেখায়, অষ্টম দিনে রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং অর্থ সচিবের কাছে আদালত অবমাননার নোটিশ (Contempt of Court Notice) পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার কারণে এবার প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের আইনি প্যাঁচে পড়তে হতে পারে।
উচ্চ পর্যায়ের কমিটি নিয়ে কড়া শর্ত
ডিএ মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের কমিটি’ (High Power Committee) গঠন করেছে। এই কমিটির কার্যকারিতা এবং আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে মলয় মুখোপাধ্যায় সংগঠনের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আলোচনার টেবিলে বসার আগে একটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হবে:
- ২৫ শতাংশ পেমেন্ট বাধ্যতামূলক: যতক্ষণ না রাজ্য সরকার আদালতের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ কর্মীদের একাউন্টে প্রদান করছে, ততক্ষণ এই কমিটি অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ বকেয়া নিয়ে সরকারের সাথে কোনো আলোচনায় বসবে না।
- সরকারের দায়িত্ব: রাজ্য সরকার নিজস্ব কমিটি গঠনের কথা ভাবলেও, এই মুহূর্তে তাদের প্রধান কাজ হলো সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে বকেয়া অর্থের একাংশ মিটিয়ে দেওয়া।
কর্মীদের প্রতি কনফেডারেশনের বার্তা
আইনি লড়াইয়ের এই জটিল পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি শিক্ষক, কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনপ্রাপকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এই লড়াই থেকে সংগঠন একচুলও সরবে না। সংগঠনের একমাত্র লক্ষ্য হলো কর্মীদের হকের টাকা তাদের হাতে তুলে দেওয়া। এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য বিশিষ্ট আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং অন্যান্য সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।














