8th Pay Commission: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। অষ্টম বেতন কমিশন বা 8th Pay Commission-এর কার্যপদ্ধতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। প্রথাগত নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে এবার সরাসরি সাধারণ কর্মীদের মনের কথা শুনতে চাইছে সরকার। বেতন বা পেনশন কতটা বাড়লে সুবিধা হয়, সেই মতামত এখন আর শুধুমাত্র সংগঠন বা ইউনিয়নের মাধ্যমে নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবেও জানানো যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে এক বিরল ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ।
পুরনো প্রথা বনাম নতুন সুযোগ
সাধারণত বেতন কমিশনের কাছে কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া পেশ করার দায়িত্ব থাকে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন বা ইউনিয়নের ওপর। সাধারণ কর্মীরা ব্যক্তিগত স্তরে নিজেদের অভাব-অভিযোগ বা প্রত্যাশার কথা সরাসরি কমিশনকে জানানোর সুযোগ পান না। কিন্তু এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিটি কর্মী যাতে তাদের নিজস্ব মতামত বা পরামর্শ কমিশনকে জানাতে পারেন, তার জন্য একটি উন্মুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।
মতামত জানানোর সহজ পদ্ধতি
সরকার কর্মীদের মতামত সংগ্রহের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। আপনি যদি একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগী হন, তবে নিজের পরামর্শ জানাতে নিচের পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করতে পারেন:
- অনলাইন পোর্টাল: কর্মচারীরা ‘MyGov’ প্ল্যাটফর্ম অথবা অষ্টম বেতন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (যেমন 8cpc.gov.in)-এ লগ-ইন করে মতামত জানাতে পারেন।
- প্রশ্নোত্তর পর্ব: পোর্টালে বেতন কাঠামো, ভাতা এবং পেনশন সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্ন রাখা হয়েছে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে আপনি আপনার চাহিদা সরাসরি তুলে ধরতে পারবেন।
- ফাইল আপলোড ও ইমেল: শুধুমাত্র প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই শেষ কথা নয়। আপনি চাইলে নিজের বিস্তারিত মতামত লিখে পিডিএফ (PDF) ফাইল হিসেবে পোর্টালে আপলোড করতে পারেন। এছাড়া চিঠি বা ইমেলের মাধ্যমেও পরামর্শ পাঠানো যাবে।
- ভাষা: এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষাকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
কারা কারা পরামর্শ দিতে পারবেন?
শুধুমাত্র বর্তমান কর্মরত সরকারি কর্মচারীরাই নন, এই প্রক্রিয়ার আওতা বেশ বিস্তৃত। মতামত জানাতে পারবেন:
- কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কর্মীরা।
- বিচারবিভাগীয় আধিকারিক ও আদালতের কর্মীবৃন্দ।
- পেনশনভোগী এবং অবসরপ্রাপ্তদের বিভিন্ন সংগঠন।
- বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদস্যবৃন্দ।
- গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ আগ্রহী ব্যক্তিরাও।
সময়সীমা এবং গোপনীয়তা
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মতামত জানানোর এই প্রক্রিয়াটি চলতি বছরের ১৬ই মার্চ পর্যন্ত খোলা থাকবে। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে ব্যক্তিগত মতামত জানালে চাকরির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না। এ প্রসঙ্গে অষ্টম বেতন কমিশন সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছে যে, মতামত প্রদানকারী প্রত্যেক কর্মচারীর নাম ও পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে। প্রাপ্ত সমস্ত পরামর্শ বিশ্লেষণ করে যা কর্মীদের জন্য সবথেকে বেশি কল্যাণকর হবে, তার ভিত্তিতেই আগামী দিনের বেতন কাঠামো প্রস্তুত করা হবে।














