কলকাতা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই বিশেষ দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এক বড় চমক। সিপিএমের প্রাক্তন তরুণ নেতা এবং প্রাক্তন এসএফআই নেতা প্রতীক উর রহমান আজ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয়ে এই আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন হয়। যদিও এই দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা।
আজ বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ রক্ষী পরিবেষ্টিত অবস্থায় প্রতীক আমতলার তৃণমূল পার্টি অফিসে পৌঁছন। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তিনি দলীয় পতাকা তুলে নেন। যোগদানের পর প্রতীক বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার সবচেয়ে বড় শক্তি তৃণমূল!” এছাড়া তিনি জানান, “আমাকে টিকিট দিলেও ভোটে লড়বো না, আমি তৃণমূলের হয়ে কাজ করতে চাই।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রতীক উর রহমান ডায়মন্ড হারবার থেকে সিপিএমের প্রার্থী হয়ে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। প্রায় সাত লক্ষ ভোটে পরাজিত হলেও তিনি এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। দু’বছরের মধ্যেই সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন সহযোগিতায় পরিণত হল।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্যপদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। আজ শনিবার ভাষা দিবসের দিন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে সিপিএম। এ বিষয়ে রাজ্য সিপিএম এর তরফে আনুষ্ঠানিক চিঠিও জারি করে।
সর্বশেষ, প্রতীক উর রহমানের তৃণমূলে যোগদানের পর সিপিএম সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁকে “বিক্রিত মানুষ” বলে আখ্যা দিয়ে ধিক্কার জানিয়েছেন। কেউবা লিখেছেন, “এত নীচে নামতে পারে মানুষ… ধিক্কার জানাতেও লজ্জা লাগে।” অন্যরা বলছেন, “আজীবন এই লজ্জা বহন করতে হবে” বা “পরবর্তী প্রজন্ম লজ্জা পাবে।” এই ঘটনা বাম শিবিরে আরও অস্বস্তি বাড়িয়েছে, বিশেষ করে বিধানসভা ভোটের আগে।














