রাজ্য রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ মুকুল রায় (Mukul Roy), কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে (অ্যাপোলো হাসপাতাল) রবিবার রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর কারণ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া, অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায় নিজেই এই দুঃখের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বাবা অনেকদিন ধরে লড়াই করছিলেন, অনেক কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু শেষ যুদ্ধটা জিততে পারেননি।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি পারকিনসনস ডিজিজ, ডিমেনশিয়া, কিডনির জটিলতা সহ একাধিক রোগে ভুগছিলেন। প্রায় ৬০০ দিনেরও বেশি সময় হাসপাতালে কাটিয়েছেন, অনেক সময় কোমায় ছিলেন।
১৯৫৪ সালের ১৭ এপ্রিল উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় জন্ম মুকুল রায়ের। সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাস করেন। ছাত্রজীবন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, যোগ দেন যুব কংগ্রেসে। সেখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এরপর ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দল তৃণমূল (All India Trinamool Congress) তৈরি হলে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেন মুকুল রায় (Mukul Roy)। দলের সংগঠন গড়ে তোলা, কর্মীদের একত্রিত করা, জেলা-ব্লক স্তরে নেটওয়ার্ক তৈরি সবকিছুর মূলে ছিলেন তিনি। এ কারণেই অনেকে তাঁকে তৃণমূলের ‘চাণক্য’ বলতেন।
মুকুল রায় জমি আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে ২০১১-এর তৃণমূলের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন। রাজ্যসভা সাংসদ, জাহাজ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী, তারপর রেলমন্ত্রী এসব পদ সামলেছেন তিনি। তৃণমূল এ মমতার পর দলের সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠ হয়ে ওঠেন মুকুল রায়। কিন্তু ২০১৫-এর পর থেকে দলের ভিতরে রেষারেষি অসন্তোষ বাড়লে, এছাড়া কেলেঙ্কারির তদন্তে নাম জড়ালে একসময় তিনি ২০১৭-এ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যান। বলা হয় বঙ্গ রাজনীতিতে দলবদলের প্রসঙ্গ উঠলেই প্রথম সারিতে উঠে আসে মুকুল রায় (Mukul Roy) এর নাম। বিজেপিতে তিনি বাংলায় দলের উত্থানের অন্যতম কারিগরও। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপির বড় সাফল্যের পিছনে তাঁর কৌশলের হাত ছিল। এরপর জাতীয় সহ-সভাপতি হন, ২০২১-এ কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপি তথা বিধানসভার বিধায়কও হন। বিধায়ক হবার কয়েক মাসের মধ্যে ফিরে আসেন তৃণমূলে। এরপর দলত্যাগ বিরোধী আইনে পরে তাঁর বিধায়ক পদও খারিজ হয়ে যায়।














