বিহার সরকারের নতুন নিয়ম বিক্রি করা যাবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরের পাশে মাছ-মাংস! কি কারণ উল্লেখ করেছেন বিহার সরকার জানুন

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

খোলা জায়গায় মাছ-মাংস বিক্রি বা কাটা দেখলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে হিংসাত্মক প্রবণতা বাড়ে।  সম্প্রতি এমনই মন্তব্য করে বসলেন বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা।  গত ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার এক সাক্ষাৎকারে এবং পরবর্তীতে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে এ কথা জানান।

প্রৌঢ় এলাকা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনবহুল স্থানে খোলা অবস্থায় মাছ ও মাংস আর বিক্রি করার উপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন বিহারের উপ–মুখ্যমন্ত্রী তথা নগরোন্নয়ন ও আবাসন মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা।

তিনি এই দাবির প্রেক্ষিতে কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, বাচ্চাদের মধ্যে হিংসাত্মক মনোভাব রোধ এবং জনস্বাস্থ্যের খাতিরেই নীতীশ কুমার সরকারের এই পদক্ষেপ।  জানা গিয়েছে এই নতুন নিয়মকে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের করার লক্ষ্যে নগরোন্নয়ন ও আবাসন দপ্তরের মন্ত্রী প্রধান সচিব ভিনায় কুমারকে (Vinay Kumar) চিঠি পাঠান। যদিও এই দাবির পিছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিজয় সিনহার এই মন্তব্যের পর বিহারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র নাটকীয়তা শুরু হয়েছে।  সামনেই হোলি এবং প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে এই পদক্ষেপকে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে নারাজ বিরোধী শিবির।  যদিও এই বিষয়ে আরজেডি বিধায়ক ভাই বীরেন্দ্র এবং এআইএমআইএম বিধায়ক আখতারুল ইমাম জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্থান বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার নিয়ম আগে থেকেই আছে।  কিন্তু নীতিশ কুমারের মন্ত্রী সিনহার উপস্থাপনার ধরন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই ও মেরুকরণের রাজনীতির ইঙ্গিত বর্তায়।  এছাড়াও আরজেডি মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে বিজেপি নিজেদের হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বিহারে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন বিহার সরকারকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌।  তিনি বলেন, “বিহারে খোলা জায়গায় মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধ করা ঠিক কি? সবাই কি এখন শপিং মলে গিয়ে মাছ-মাংস কিনবে? আমাদের সাধারণ চাষিরা তো রাস্তার পাশে বসে মাছ বিক্রি করেন।  এভাবে তাঁদের কি বাধা দেওয়া ঠিক হবে?”

উল্লেখযোগ্য, এই পদক্ষেপ কতটা দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ হবে, তা এখনও প্রশ্নের মুখে।  নতুন নিয়মের কারণে সেই সব ব্যবসায়ী যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা জনবহুল এলাকায় ব্যবসা করতেন, তাঁরা কি বাইরে গিয়ে ব্যবসা শুরু করবে, নাকি তারা তাদের কাজ হারাবেন? তা নিয়েও ধোঁয়াশা, বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন উঠেছে বিজেপির নিরামিশী ভাবধারা এইখানে প্রাধান্য পাবে বলে জানা যাচ্ছে? ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের তথ্য যেখানে জানা যায় বিহারের ৪০ শতাংশে অধিকাংশ শিশু অপষ্টির( malnutrition) সমস্যায় ভুগছেন।

এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন অনিসা জেবা।  তিনি বর্তমান রাজনীতি এবং সমসাময়িক সামাজিক ইস্যু নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন।
অনিসা জেবা
(বিশেষ প্রতিনিধি)

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন