ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে হৃৎস্পন্দন। স্রেফ একটি ইমেল, আর তাতেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল তিলোত্তমা থেকে উত্তরের কোচবিহার।রাজ্যের আদালত ও বিমানবন্দরের পর এবার সরকারি পরিষেবা কেন্দ্রগুলোতে বড়সড় নাশকতার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা ও শিলিগুড়ির পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রধান ডাকঘরগুলোতে (জিপিও) ইমেলের মাধ্যমে এই বোমা হামলার হুমকি পাঠানো হয়। ইমেলে দাবি করা হয়েছে, ‘বেলা ২টোর মধ্যে বিস্ফোরণ হবে বলে।’
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কলকাতার আনন্দপুর ও সল্টলেক পাসপোর্ট অফিসে প্রথম এই হুমকি মেইল পৌঁছায়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুত ভবনগুলো খালি করে দেওয়া হয়। একই চিত্র দেখা গেছে নদীয়ার কৃষ্ণনগর পাসপোর্ট অফিসেও, যেখানে পাশের সিএ (CA) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও সবাইকে সরিয়ে নেয় পুলিশ।
অন্যদিকে, হাওড়া ময়দান প্রধান ডাকঘর, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, বাঁকুড়া, আসানসোল এবং উত্তরবঙ্গের কোচবিহার প্রধান ডাকঘরেও একই ধরনের মেইল আসায় জনমনে ত্রাস সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় কাজ বন্ধ রেখে গ্রাহক ও কর্মীদের বের করে দিয়ে মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
খবর পাওয়ার পরপরই প্রতিটি এলাকায় পৌঁছেছে পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড। স্নিফার ডগ ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রতিটি দফতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বস্তু উদ্ধার হয়নি, তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, রাজ্য জুড়ে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে এই ধরণের ইমেল পাঠানো হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার হুগলি, বীরভূম ও আসানসোল জেলা আদালতেও ‘আরডিএক্স’ বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা থেকে জানা যায়, এগুলো পরিকল্পিত ‘হক্স মেইল’ বা ভুয়ো হুমকি হতে পারে, যার উদ্দেশ্য জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো।














