TET Notification: জম্মু ও কাশ্মীর শিক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিকতম সিদ্ধান্তে ইন-সার্ভিস বা কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সরকারি সিদ্ধান্তের এই ইউ-টার্ন (U-turn) বা আকস্মিক পরিবর্তন শিক্ষক সমাজকে চিন্তায় ফেলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সদ্য প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি বর্তমানে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিন দিনের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি বাতিল
২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ জম্মু ও কাশ্মীর সরকার একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে যে, কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টেট (TET) সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তিটি আগে প্রকাশ করা হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত বা “Kept in abeyance” রাখা হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই স্থগিতাদেশ আসার মাত্র তিন দিন আগেই, অর্থাৎ ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের টেট পরীক্ষায় বসার জন্য বিজ্ঞপ্তিটি মহা সমারোহে প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এখন থমকে গেল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষাপট
প্রশাসন সূত্রে খবর, ২৩শে ফেব্রুয়ারির মূল বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দিষ্ট রায়কে মান্যতা দিয়ে। ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে ‘আনজুমান ইশাত ই তালিম ট্রাস্ট বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্য’ (Anjuman Ishat E Taleem Trust vs The State of Maharashtra) মামলায় দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় যে রায় দিয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন কর্মরত শিক্ষকদের টেট নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু ২৬শে ফেব্রুয়ারির আকস্মিক নোটিশে জানানো হয়েছে, অনিবার্য কারণবশত সেই বিজ্ঞপ্তিটি আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।
শিক্ষকদের ওপর প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সরকারিভাবে “পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত” (Till further order) কথাটি উল্লেখ থাকায়, কবে নাগাদ আবার এই প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে:
- অনিশ্চয়তা: যারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করেছিলেন, তারা এখন দোটানায় পড়লেন।
- আইনি জটিলতা: হঠাৎ কেন এই স্থগিতাদেশ, তার স্পষ্ট কোনো কারণ নোটিশে উল্লেখ না থাকলেও, প্রশাসনিক বা আইনি কোনো জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আপাতত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশিকার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে সকল ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের।














