আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় ভারতীয় মুদ্রার রেকর্ড পতন ঘটল। বৃহস্পতিবার বাজার খুলতেই দেখা যায়, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মান হুড়মুড়িয়ে পড়ে ৯৩ টাকা ৩১ পয়সায় গিয়ে ঠেকছে। ভারতীয় মূদ্রার এমন হাল নতুন কিছু নয়, মোদি শাসনকালেই এরকম দৃশ্য দেখা গেছে ভারতীয় টাকায়।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখন ১ ডলারের দাম ছিল প্রায় ৫৮ টাকা ৫৬ পয়সা। গত ১১ বছরে রুপির এই বিশাল অবমূল্যায়ন নিয়ে এখন দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এছাড়াও ভারতীয় টাকার দামে লাগাতার ছন্দপতনের প্রশ্নের মুখে পড়লেও কেন্দ্রীয় সরকারের এবিষয়ে কোনোরকম পদক্ষেপ দেখা যায়নি। টাকার মানের পতনের খবর প্রতিনিয়ত উঠে এসেছে একের পর এক।
চলমান পরিস্থিতিতে মাত্র কয়েক দিনে ভেঙেছে আগের রেকর্ড। যা আজ প্রতি ডলারের দাম পৌঁছেছে ভারতীয় টাকায় দাম ৯৩ টাকা ৩১ পয়সায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূলত কয়েকটি কারণে টাকার দাম এভাবে কমছে। প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত যেহেতু বিদেশ থেকে প্রচুর তেল কেনে, তাই সেই তেলের দাম মেটাতে বাজারে ডলারের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ক্রমাগত টাকা তুলে নিচ্ছেন। ভারতের বাজারে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রি দাম কমিয়ে দুর্বল করেছে ভারতীয় মুদ্রাকে।
তৃতীয়ত, বিশ্বজুড়ে অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় ডলার নিজেই অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের একাংশের আশঙ্কা, টাকার এই পতন অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুত ১ ডলারের দাম ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকবে। মুদ্রার এই লাগাতার ছন্দপতনের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে
ভারতীয় টাকার এই রেকর্ড পতন নিয়ে ইতিমধ্যেই সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির। ‘আচ্ছে দিন’ এর স্লোগানকে বিঁধে তাঁদের কটাক্ষ, দেশের অর্থনীতির হাল যদি এমনই হয়, তবে সাধারণ মানুষ বাঁচবে কী করে? আজ পর্যন্ত এ নিয়ে মুখ খুলেনি কেন্দ্রের মোদি সরকার।














