নবনীতা মণ্ডল, নয়াদিল্লি: দার্জিলিংয়ের চায়ের সুবাস বিশ্বজোড়া হলেও বাস্তব ছবিটা এখন অনেকটাই তেতো। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্টে উঠে এল বাংলার চা শিল্পের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের ছবি। বিশেষ করে ইন্দো-নেপাল বাণিজ্য নীতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে কমিটি জানিয়েছে, ভারত থেকে চা নেপালে রপ্তানি করতে গেলে প্রায় ৪০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে, অথচ নেপাল থেকে দার্জিলিং চায়ের নাম ব্যবহার করে যে চা ভারতে বিক্রি হচ্ছে, তাতে কোনও শুল্কই লাগছে না। ফলে বাংলার চা শিল্প সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। দার্জিলিংয়ের চায়ের (Darjeeling Tea) বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকলেও অন্দরের ছবিটা অত্যন্ত শোচনীয়। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯৬তম রিপোর্টে কেন্দ্রকে কার্যত তুলোধনা করা হয়েছে। ১৮ মার্চ সংসদে পেশ হওয়া এই রিপোর্টে সাফ জানানো হয়েছে, অবৈজ্ঞানিক বাণিজ্য নীতির কারণে ধুঁকছে বাংলার চা ও পাট শিল্প (Tea-Jute Industry Crisis)।
চায়ের লড়াইয়ে অসম যুদ্ধ: রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, ভারত থেকে চা নেপালে পাঠাতে গেলে প্রায় ৪০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। অথচ নেপাল থেকে অবাধে চা ভারতে ঢুকছে বিনা শুল্কে। এর সুযোগ নিয়ে নেপালি চা ‘দার্জিলিং’ নাম দিয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে উত্তরবঙ্গের আসল চা বাগানগুলো। এই ‘শুল্ক-বৈষম্য’ দূর না করলে দার্জিলিং চায়ের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিটি।
শুধু চা নয়, বাংলার পাট শিল্প নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিটি। রাজীব গান্ধীর আমলের নীতি মেনে খাদ্যশস্য প্যাকিংয়ে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু এখন তা কমিয়ে মাত্র ২০ শতাংশ করা হয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের রমরমা। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় আড়াই কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কমিটির প্রশ্ন— পরিবেশবান্ধব পাটকে সরিয়ে কেন প্লাস্টিককে গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র?
রিপোর্টে আরও দেখা গিয়েছে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বা পেটেন্ট সংক্রান্ত খাতে বরাদ্দ বাজেটের মাত্র ৪৫ শতাংশ খরচ হয়েছে। এছাড়া বিদেশে ভারতীয়দের পেটেন্ট আবেদনের সংখ্যাও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ছেন। অথচ বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে রান্নার গ্যাস ও সিএনজির দাম কেন কমছে না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি।
রিপোর্টে চামড়া শিল্পের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুকে মডেল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ করা হয়েছে, ‘পিএমসিএস পিওয়াই’ প্রকল্পের মতো ক্ষেত্রে কেন্দ্র কোনও অর্থ বরাদ্দ না করেই উল্টে বাংলার নামে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে।














