প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ভোট বড় বালাই! তাই জয় হাসিল করতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রয়াত নেতার ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করতেও পিছপা হচ্ছে না গেরুয়া শিবির। পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড় বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার নির্বাচনী প্রচারে এখন সবথেকে বেশি চর্চায় উঠে এসেছেন প্রয়াত কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ভোলানাথ সেন। গোটা দেশে যখন নরেন্দ্র মোদীকে সামনে রেখে বিজেপি ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে, তখন ভাতাড়ে ‘ঘরের ছেলে’ ভোলানাথ সেনকেই ধ্রুবতারা বানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
ভাতাড়ে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার প্রচার ফ্লেক্সে বড় করে দেওয়া হয়েছে প্রয়াত ভোলানাথ সেনের ছবি। নিচে লেখা রয়েছে— ‘ভাতাড়ের রূপকার ভোলানাথ সেন লহ প্রণাম’। বিজেপির দলীয় প্রতীকের সঙ্গে একনিষ্ঠ কংগ্রেস নেতার এই সহাবস্থান দেখে বিস্মিত খোদ দলেরই একাংশ।
এই কৌশল নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার পাশে দাঁড়িয়েছেন বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অভিজিৎ তা। তাঁর দাবি, “ভোলানাথ সেন ভাতাড় থেকে জিতে মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি এই এলাকার রূপকার হিসেবে মানুষের মনে রয়ে গিয়েছেন। এমন এক ব্যক্তিত্বকে কোনো একটি রাজনৈতিক বেড়াজালে আটকে রাখা ঠিক নয়।”
বিজেপির এই পদক্ষেপকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, গান্ধীবাদী নেতার ছবির ওপর বিজেপির প্রতীক দিয়ে শুধু অন্যায় নয়, তাঁকে অপমান করা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে মোদী ম্যাজিক শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই এখন কংগ্রেস নেতার হাত ধরতে হচ্ছে বিজেপিকে। ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকেও এই ঘটনাকে বিজেপির ‘দেউলিয়া রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।
ভাতাড়ের প্রবীণ নাগরিকদের কাছে ভোলানাথ সেন আজও এক শ্রদ্ধার নাম। সেই আবেগকেই কি ভোটে রূপান্তর করতে চাইছেন সৌমেন কার্ফা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এলাকার মানুষের মন জয় করতেই এই ‘ভোলানাথ কার্ড’ খেলছে বিজেপি। তবে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে এর ফলে কতটা প্রভাব পড়বে, তা বোঝা যাবে ভোটের ফলেই।














