উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও একের পর এক শীর্ষ পুলিশকর্তার বদলি (IPS Transfer) নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো তিন পাতার একটি বিস্ফোরক চিঠিতে তিনি কমিশনের পদক্ষেপকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘সংবিধানবিরোধী’ বলে কড়া আক্রমণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনী বিধিভঙ্গের কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই যেভাবে একতরফা বদলি করা হচ্ছে, তা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।
চিঠির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি-সহ জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারদের যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’। তাঁর প্রশ্ন, কোনও আলোচনা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই ১৫ জন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে কেন ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হলো? যাঁদের রাজ্যে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য’ মনে করা হচ্ছে, তাঁদেরই আবার অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করাকে ‘চরম স্বেচ্ছাচারিতা’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
চিঠিতে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (SIR)-এর প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এই সংকটজনক সময়ে জেলাশাসকদের সরিয়ে দিলে নতুন আধিকারিকদের পক্ষে বকেয়া কাজ সামলানো কঠিন হবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষের আপিল করার সময় কমিয়ে দিয়ে এটা কি ‘গণতন্ত্রের প্রহসন’ করা হচ্ছে না?
মার্চ-এপ্রিল মাসে বাংলায় কালবৈশাখীর প্রকোপ থাকে। মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, স্থানীয় পরিস্থিতি ও ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের সরিয়ে দিলে দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হতে পারে। বাইরে থেকে আসা আধিকারিকদের পক্ষে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে। এর ফলে কোনও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা তৈরি হলে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
চিঠির শেষাংশে মুখ্যমন্ত্রী আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অপব্যবহার করে রাজ্যে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করার এই প্রচেষ্টাকে তিনি পরোক্ষ ‘জরুরি অবস্থা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজ্য ও কমিশনের এই টানাপড়েন এখন তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া চিঠির পর কমিশন পাল্টা কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।














