উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পর্যটকের নিরীহ ভিসার আড়ালে লুকিয়ে ছিল আন্তর্জাতিক ভাড়াটে সেনার তকমা! ভারতের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশী মায়ানমারে (Myanmar Border Conspiracy) জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং এদেশের কিছু নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনকে অত্যাধুনিক ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) জালে ধরা পড়ল এক মার্কিন এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিক। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু করে ১১ দিনের বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়েছে দিল্লির বিশেষ এনআইএ আদালত। ধৃত মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইক আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত পরিচিত নাম, যিনি লিবিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে নিজস্ব প্রাইভেট সিকিউরিটি ফার্ম চালানোর জন্য কুখ্যাত। আর তাঁর সঙ্গেই থাকা ছয় ইউক্রেনীয় সম্ভবত রুশ-যুদ্ধের টাটকা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মায়ানমারের চিন প্রদেশে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও ড্রোনের ব্যবহার শেখাচ্ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ছক। ইউরোপ থেকে প্রচুর অত্যাধুনিক ড্রোন ভারতে এনে গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামের পথ ধরে মায়ানমারে পাচার করা হচ্ছিল। এই বিদেশি ভাড়াটে সেনারা অসম থেকে মিজোরাম হয়ে অত্যন্ত সন্তর্পণে মায়ানমারে প্রবেশ করে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন এবং ইউক্রেনীয় দূতাবাস ‘গোপনীয়তা’র কারণ দেখিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বলে জানিয়েছে। তবে, এই বিপদের আঁচ আগেই পেয়েছিল মিজোরাম সরকার। খোদ মুখ্যমন্ত্রী লালডুহোমা বিধানসভায় আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দু’হাজার বিদেশি পর্যটকের ছদ্মবেশে রাজ্যে ঢুকে মায়ানমারে গা-ঢাকা দিয়েছে।
আমেরিকা ও চিনের ভূ-রাজনৈতিক রেষারেষির জেরে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত যে এখন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতীয় নিরাপত্তার এই চরম বিপদের কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্র সরকার তড়িঘড়ি মিজোরাম সহ উত্তর-পূর্বের বেশ কিছু রাজ্যে বিদেশিদের প্রবেশ রুখতে ফের ‘প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট’ চালু করেছে। কিন্তু এনআইএ’র জালে এই সাত বিদেশির ধরা পড়াটা যে এক বিশাল আন্তর্জাতিক অস্ত্র-ষড়যন্ত্রের হিমশৈলের চূড়া মাত্র, তা একপ্রকার নিশ্চিত।






