Diego Garcia | ডিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হানা: ৪,০০০ কিমি পাল্লার নতুন ‘ঝুঁকি’ দেখছে বিশ্ব!  

By Bangla News Dunia Dinesh

Published on:

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত মহাসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (IRBM) উৎক্ষেপণ বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। যদিও সূত্রের খবর, একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে বিকল হয়ে যায় এবং অন্যটি মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও এই হামলার রাজনৈতিক ও কৌশলগত তাৎপর্য অনেক বেশি।

পাল্লার রহস্য ও গোপন সক্ষমতা

তেহরান এতদিন দাবি করে আসছিল যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ইরান থেকে ডিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, এই হামলার চেষ্টার অর্থ হল—ইরানের হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যার পাল্লা তাদের ঘোষিত সীমার দ্বিগুণ। এই ‘ডকট্রিনাল অ্যাম্বিগুয়িটি’ বা কৌশলগত অস্পষ্টতা আমেরিকা ও ব্রিটেনের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের জন্যও বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রণক্ষেত্রের সম্প্রসারণ: মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগর

এই হামলার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে যে, তারা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তি নয়। যুদ্ধের মেঘ এখন পারস্য উপসাগর ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগরে পৌঁছে গেছে। তেহরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’ (Mehr) জানিয়েছে: “এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা শত্রুর কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।”

কৌশলগত চাপের মুখে আমেরিকা ও মিত্রদেশগুলো

ডিয়েগো গার্সিয়া কেবল একটি দ্বীপ নয়, এটি আমেরিকার শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখান থেকেই বি-৫২ (B-52) বোমারু বিমান এবং নজরদারি বিমান পরিচালিত হয়। এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে, কোনো মার্কিন আস্তানাই এখন আর নিরাপদ নয়। এর ফলে:

  • আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন: উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েলকে এখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজাতে হবে।
  • সম্পদ স্থানান্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এখন বাধ্য হয়ে তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষিণ দিকে (ভারত মহাসাগরে) সরিয়ে নিতে হতে পারে।

ব্যর্থ হলেও জয়ী ইরান?

কারিগরি দিক থেকে হামলাটি সফল হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কার্যত ইরান ‘সফল’। মার্কিন নৌবাহিনীকে এই হামলা রুখতে দামী SM-3 ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়েছে। এমনকি পুরনো প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও যদি আমেরিকার আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা যায়, তবে সেটিও ইরানের জন্য একটি কৌশলগত বিজয়।

ডিয়েগো গার্সিয়ার ওপর এই হামলার চেষ্টা প্রমাণ করে যে, ইরান এখন দক্ষিণ ইউরোপ থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম। পাল্লা নিয়ে ইরানের এই নতুন ধোঁয়াশা আগামী দিনে বৈশ্বিক কূটনীতিতে তাদের দর কষাকষির ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিল।

Bangla News Dunia Dinesh

মন্তব্য করুন