Supplementary Voter List: রাজ্যের লক্ষ লক্ষ নাগরিকের ভোটার কার্ড নিয়ে যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার আংশিক অবসান হতে চলেছে। আগামী সোমবার বিকেল ৪টের সময় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকা মূলত সেইসব সাধারণ মানুষের জন্য যাদের নাম নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল এবং পুনরায় যাচাইয়ের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল।
নামের বর্তমান অবস্থা এবং পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের তথ্য খতিয়ে দেখার সময় বহু নাম ‘আন্ডার এডজুডিকেশন’ স্তরে রাখা হয়। এর অর্থ হলো ওই নামগুলি আরেকবার যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। মোট ৬০ লক্ষ মানুষের নাম এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসে। তবে নতুন প্রকাশিত তালিকায় এই সব নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার নামের যাচাই পর্ব শেষ হয়েছে। আগামী সোমবার শুধুমাত্র এই অংশটিরই তালিকা প্রকাশ পাবে। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১০ লক্ষ নাম বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের নথিতে কোনও ত্রুটি নেই তারা ‘ফ্রেশ’ ভোটার হিসেবে গ্রাহ্য হবেন এবং যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে তারা ‘ডিলিটেড’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন।
পোর্টাল থেকে তথ্য যাচাইয়ের উপায়
নাগরিকরা দুটি ভিন্ন উপায়ে নিজেদের ভোটার কার্ডের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন। সোমবার বিকেলের পর সরাসরি voters.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য যাচাই করা যাবে।
প্রথমত, পোর্টালে গিয়ে নির্দিষ্ট রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ এবং ২০২৬ সাল নির্বাচন করে ‘এসআইআর সাপ্লিমেন্টারি রোল’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে নিজের জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রের পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে দেখা যাবে নামের পাশ থেকে বিচারাধীন তকমাটি সরেছে কি না।
দ্বিতীয়ত, সরাসরি ভোটার কার্ডের নম্বর (এপিক নম্বর) ব্যবহার করে পোর্টালে সার্চ করা সম্ভব। সার্চ করার পর যদি নাগরিকের সম্পূর্ণ তথ্য দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে নাম সুরক্ষিত রয়েছে। যদি ‘নো রেজাল্ট ফাউন্ড’ দেখায়, তবে ধরে নিতে হবে নামটি বাতিল হয়েছে। আর যদি এখনও আন্ডার এডজুডিকেশন দেখায়, তবে পরবর্তী তালিকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কিছু জরুরি কথা
যাদের নাম এই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় থাকবে না, তাদের এখনই দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। মনে রাখতে হবে, এখনও প্রায় ৩৩ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হওয়া বাকি। পরবর্তী সময়ে আরও অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর যদি সার্চ করার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে নাম পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেছে, তবে সেই নাগরিককে অবিলম্বে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।














