PAN Card Rules: প্যান কার্ড তৈরি বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে আয়কর দপ্তর প্যান কার্ড প্রদানের নিয়মে বড় ধরনের কড়াকড়ি করতে চলেছে। এতদিন শুধুমাত্র আধার কার্ড থাকলেই খুব সহজে প্যান কার্ডের কাজ মেটানো যেত। কিন্তু আসন্ন আর্থিক বছর থেকে সেই সুযোগ আর থাকছে না। আধার কার্ডের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কিছু নিয়ম মানতে হবে আবেদনকারীদের। দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঙ্কের কাজ থেকে শুরু করে আয়কর রিটার্ন—সব ক্ষেত্রেই প্যান কার্ড অপরিহার্য। তাই এই নতুন নিয়মগুলি সম্পর্কে আগে থেকে অবগত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বদলের কারণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে ৩১ মার্চ পর্যন্ত খুব সাধারণ ই-কেওয়াইসি পদ্ধতির মাধ্যমে প্যান কার্ড তৈরি করা যায়। এর জন্য শুধু আধার কার্ডের তথ্যই যথেষ্ট। কিন্তু কেন্দ্র সরকার মনে করছে, পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং তথ্যের যেকোনো ধরনের ভুল আটকানো প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই আগামী অর্থবর্ষ থেকে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর করা হচ্ছে। সিএসসি ই-গভর্ন্যান্স সার্ভিসেস ইন্ডিয়া লিমিটেড ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করেছে, যাতে শেষ মুহূর্তে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
জমা দিতে হবে যেসব অতিরিক্ত নথি
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্যান কার্ডের আবেদনপত্রে এবার থেকে আধার কার্ডের পাশাপাশি নিজের জন্মতারিখের সুনির্দিষ্ট প্রমাণপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর জন্য বেশ কিছু সরকারি নথির যেকোনো একটি জমা করা যেতে পারে:
- আবেদনকারীর জন্মের শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট।
- সচিত্র ভোটার কার্ড অথবা পাসপোর্ট।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স।
- মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশিট অথবা অ্যাডমিট কার্ড।
বিশেষ ক্ষেত্রে বা অন্যান্য নথি না থাকলে প্রমাণ হিসেবে আইনি এফিডেভিটও ব্যবহার করা যেতে পারে।
নামের ক্ষেত্রে কোনো অমিল বরদাস্ত নয়
আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি চিন্তার বিষয় হলো তথ্যের নিখুঁত মিল। প্যান কার্ডের জন্য দেওয়া নামের সঙ্গে আধার কার্ডে থাকা নামের হুবহু মিল থাকতে হবে। যদি বানানে বা নামে বিন্দুমাত্র ফারাক থাকে, তবে সেই আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য করা হবে। তাই আবেদন করার আগে সব বানান দুবার মিলিয়ে নেওয়া আবশ্যক।
পুরোনো ফর্ম বাতিলের সিদ্ধান্ত
যাঁরা পুরোনো ফর্মে আবেদন করার কথা ভাবছেন, তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ১ এপ্রিল থেকে আয়কর দপ্তর প্যান কার্ডের সমস্ত পুরোনো ফর্ম্যাট পুরোপুরি বাতিল করে দিচ্ছে। এর বদলে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফর্ম চালু হবে। ফলে ৩১ মার্চের পর নতুন ফর্মে, নতুন নিয়মে এবং অতিরিক্ত নথি দিয়ে আবেদন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে নিরাপত্তা বাড়লেও, প্যান কার্ড পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়াবে। তাই ঝামেলা এড়াতে চলতি মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ।














