রাজ্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে আবারও বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। দলের ইস্তেহার প্রকাশের সময় সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে।” এই ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, এই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে এবং তা চালু থাকবে ভবিষ্যতেও। বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অনেকেই ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে তা আর বাস্তবায়িত হয় না। তাঁর কথায়, “আমরা যা বলি, তা করে দেখাই, আর সেটা আগেভাগেই করে দিই।”
কত টাকা মিলছে এই প্রকল্পে?
বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে—
- সাধারণ শ্রেণির মহিলারা পাচ্ছেন মাসে ১৫০০ টাকা (বছরে ১৮,০০০ টাকা)
- তফসিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলারা পাচ্ছেন মাসে ১৭০০ টাকা (বছরে ২০,৪০০ টাকা)
অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পে একধাক্কায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা বাড়ানো হয়েছিল, ফলে উপভোক্তাদের আর্থিক সুবিধা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।
ভোটের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। মহিলাদের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে শাসকদল। এবারও সেই প্রকল্পকে সামনে রেখেই ভোটের আগে কৌশল সাজানো হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই প্রকল্পে সুবিধা পেতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে—
- আবেদনকারীর নাম স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে নথিভুক্ত থাকতে হবে
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
- বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে
- সরকারি কর্মচারীরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না
কোন কারণে টাকা বন্ধ হতে পারে?
প্রশাসনের তরফে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে। যেমন—
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার যুক্ত না থাকলে টাকা ঢুকবে না
- আবেদনকারীর নিজস্ব (single) অ্যাকাউন্ট হতে হবে
- জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে এই ভাতা পাঠানো হবে না
এছাড়া, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য ভুল থাকলেও পেমেন্ট আটকে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ রান্নার গ্যাসের জন্য আর হাহাকার নয়! LPG নিয়ে বড় স্বস্তির খবর দিল কেন্দ্র
সব মিলিয়ে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচনের আগে এই প্রকল্প কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।














