উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে আন্তর্জাতিক টানাপড়েনের জেরে সপ্তাহের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার (Stock Market Crash)। সোমবার সকালে বাজার খুলতেই রক্তক্ষরণ শুরু হয় দালাল স্ট্রিটে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম—এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাজার খোলার চিত্র: সূচকের পতন
সোমবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই:
- সেনসেক্স (S&P BSE Sensex): ১,২৪৩ পয়েন্ট নেমে দাঁড়ায় ৭৩,২৮৯.৯৬-এ।
- নিফটি ৫০ (NSE Nifty 50): ৪১৩.৮৫ পয়েন্ট পড়ে ২২,৭০০.৬৫-এ।
কেন এই অস্থিরতা?
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ড. ভি কে বিজয়কুমার জানান, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে পা দিলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে দেওয়া ‘৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম’ বাজারকে আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁদের ভূখণ্ড লঙ্ঘন না করলে প্রণালী খোলা থাকবে, তবুও তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
সব সম্পদে ‘রিস্ক-অফ’ পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতার প্রভাব শুধু শেয়ারে নয়, বন্ড এবং সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগেও পড়েছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে শেয়ারের থেকেও সোনার দামের পতন বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় বাজার পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইটি (IT), ফার্মাসিউটিক্যালস, অটো এবং অটো অ্যানসিলিয়ারি খাতের দিকে নজর রাখার কথা বলা হচ্ছে, কারণ এই ক্ষেত্রগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।














