উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের দামামা যত বাড়ছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ততই তৈরি হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তা। সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালির কাছে সোনা মানে কেবল অলংকার নয়, বরং এটি আপদকালীন সময়ের একটি বড় ভরসা বা সঞ্চয়। সাধারণত যুদ্ধের মতো অস্থির (West Asia war) সময়ে সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, কিন্তু সোমবার সকালের চিত্রটি ছিল একেবারেই উলটো। সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড়ো ধস নামায় (Gold-Silver Price Crash) মধ্যবিত্তের মনে যেমন স্বস্তি মিলেছে, তেমনই তৈরি হয়েছে একরাশ কৌতূহল। এদিন সকাল ১০:২৬ পর্যন্ত এমসিএক্স (MCX) বাজারে সোনার দাম প্রায় ৫ শতাংশ বা ৭,১৮৫ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৩৭,৩০৭ টাকায় (প্রতি ১০ গ্রাম)। অন্যদিকে রুপোর দাম প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি বা ১৩,১৭২ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২,১৩,৬০০ টাকায়। গত কয়েক মাসে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির পর একদিনে এই পরিমাণ পতনকে বাজারের একটি বড়সড়ো সংশোধন বা ‘কারেকশন’ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই নাটকীয় পতনের পিছনে মূল কারণ হল বিগত কয়েক মাসে সোনার দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। যুদ্ধের শুরুর দিকে বিনিয়োগকারীরা বিপুল পরিমাণে সোনা ও রুপো কিনে সঞ্চয় করতে শুরু করেছিলেন, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। বর্তমানে দাম শিখরে থাকায় অনেক বড় বিনিয়োগকারী এখন বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন, যাকে প্রযুক্তিগত ভাষায় ‘প্রফিট বুকিং’ বলা হয় (Profit booking)। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সোনার দামে। কারণ সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনার বদলে বন্ড বা ফিক্সড ডিপোজিটের মতো নিশ্চিত আয়ের উৎসের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নগদের সংকট। এশীয় শেয়ার বাজারে বড়সড়ো ধস নামার ফলে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের লোকসান সামাল দিতে সোনা বিক্রি করে নগদ টাকা হাতে রাখার চেষ্টা করছেন। কেসিএম ট্রেড-এর মুখ্য বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, বর্তমানে সোনার তরলতা বা লিকুইডিটিই তার প্রতিকূলে কাজ করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে বোঝা যায় যে, সোনা তার নিরাপদ আশ্রয়ের তকমা হারায়নি, বরং বাজারের বাড়তি দামের সংশোধন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদের হারের পরিবর্তনের কারণেই এই সাময়িক পতন দেখা দিয়েছে।














