উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট রুখতে কোমর বেঁধে নামল ভারত। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) ঘোষণা করেন, এই সংঘর্ষের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সাতটি ক্ষমতাসম্পন্ন বা ‘এমপাওয়ারড গ্রুপ’ গঠন করেছে। ঠিক যেভাবে কোভিড অতিমারি মোকাবিলায় বিশেষ গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছিল, এবারও সেই ধাঁচেই অর্থনীতি ও সরবরাহ সচল রাখতে চাইছে কেন্দ্র।
জ্বালানি ও সার সুরক্ষা অগ্রাধিকার
সংকটের এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার সব উৎস থেকে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আগামী দিনগুলিতেও ধারাবাহিকভাবে এই প্রচেষ্টা চলবে।’’ ভারতের কৌশলগত ভাণ্ডারে বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন তেল মজুত রয়েছে এবং অতিরিক্ত ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন মজুত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি, কৃষিক্ষেত্রে সারের অভাব যাতে না হয়, তার জন্য দেশের ইউরিয়া কারখানাগুলিকে পূর্ণ শক্তিতে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালোবাজারি রুখতে কড়া বার্তা
সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী যাতে মজুতদারি বা কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্য রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী—উভয় দিক বিবেচনা করেই এই সাতটি কমিটি কাজ করবে। পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের ওপর এই গোষ্ঠীগুলি নজর রাখবে।
সর্বদল বৈঠক ও কূটনৈতিক অবস্থান
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার বিকেল ৫টায় সর্বদল বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্র। যদিও প্রধানমন্ত্রী নিজে সেই বৈঠকে থাকছেন না; সরকারের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এই বৈঠকে থাকছেন না বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পুনরায় জানান, ভারত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি চায় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আবেদন জানাচ্ছে।














