উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল ইরান। ওয়াশিংটনের দেওয়া ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ‘অত্যধিক’ এবং ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল তেহরান (Iran Rejects US Peace Proposal)। পরিবর্তে নিজস্ব ৫টি শর্ত আরোপ (Ceasefire Conditions) করে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর পাল্টে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই কঠোর অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
তেহরানের ৫ কঠিন শর্ত
ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’-র এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ইরানকে প্রতারিত করার নামান্তর। ইরানের ৫টি প্রধান শর্ত হলো: ১. আমেরিকা ও ইসরায়েলকে স্থায়ীভাবে ‘আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা’ (Military Aggression) বন্ধ করতে হবে। ২. ভবিষ্যতে কোনো সামরিক হামলা হবে না—এমন আইনি গ্যারান্টি বা রক্ষাকবচ দিতে হবে। ৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য নিশ্চিত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৪. মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত ‘প্রতিরোধ গোষ্ঠী’ বা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ একযোগে বন্ধ করতে হবে। ৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও হরমুজ প্রণালী সংকট
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে। আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী। পাকিস্তান ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের মতে, আমেরিকা তাদের প্রস্তাবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ ও মিসাইল সীমা নির্ধারণের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরান তা মানতে নারাজ।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
এখনও পর্যন্ত এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৫০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল ২০ জন এবং আমেরিকা ১৩ জন সেনা সদস্য হারানোর কথা স্বীকার করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহ হামলার ক্ষত বুকে নিয়ে ইরান এখন ‘আঘাতের বদলে প্রত্যাঘাত’ নীতিতে অটল। তেহরানের স্পষ্ট বার্তা—শর্ত না মানলে কোনো আলোচনা নয়।














