এবার সরাসরি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ সংবলিত এক বিস্ফোরক চার্জশিট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার কলকাতায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে তিনি এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। শাহের বক্তব্যের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজ্যে এসআইআর (SIR) নিয়ে চলা বিতর্ক। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, দেশের ১৪টি রাজ্যে এসআইআর কার্যকর হয়েছে এবং তামিলনাড়ু বা কেরলের মতো অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেও এটি নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন এবং শুধুমাত্র ভোটব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে এই বিষয়টিকে জটিল করে তুলছেন বলে তিনি দাবি করেন। শাহ প্রশ্ন তোলেন, দেশের বাকি অংশে শান্তিতে কাজ চললে ঝামেলা কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই হয়?
অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে এদিন কড়া হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক অহংকারের কারণে রাজ্য সরকার বিএসএফ কে সীমান্তে কাজ করতে দিচ্ছে না এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে গড়িমসি করছে। শাহ স্পষ্ট ঘোষণা করেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি কেন্দ্রকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বারবার আলোচনার চেষ্টা করেও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে সীমান্ত সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতাও এক জনসভা থেকে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে বিঁধে তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর এর নামে বড়সড় কারচুপি চলছে। এদিন তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৬০ শতাংশ নাম তালিকায় তোলা হলেও বাকি ৪০ শতাংশ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই বাদ পড়া নামের লিস্ট কোথায়? লিস্ট না পেলে মানুষ ট্রাইব্যুনালে আপিল করবে কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী বলেন শোনা যাচ্ছে কমিশন কলকাতায় ট্রাইব্যুনাল এর কার্যক্রম করবে? এছাড়াও এদিন সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি একটি “বজ্জাত রাজনৈতিক দল” বলে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ।














