উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় জলসীমার সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শুক্রবার বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌসেনার অন্তর্ভুক্ত হল দেশের তৃতীয় পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ (SSBM) ‘আইএনএস অরিদমন’ (INS Aridaman)। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ স্বয়ং এই ‘কমিশনিং’ প্রক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে দেশের নৌ-শক্তির নয়া অধ্যায় উন্মোচন করেন।
শত্রু দমনে অজেয় অরিদমন
সংস্কৃত শব্দ ‘অরিদম’-এর আক্ষরিক অর্থ হল ‘শত্রু বিনাশকারী’। এই নামকরণ যে সার্থক, তা স্পষ্ট ডুবোজাহাজটির যুদ্ধ ক্ষমতা দেখলেই। নৌসেনার অন্দরে এটি ‘এস-৪’ নামে পরিচিত। প্রায় ৭০০০ টন ওজনের এই দানবীয় সাবমেরিনটি আগের দুটি সাবমেরিনের (অরিহন্ত ও অরিঘাত) তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী।
কেন বিশেষ এই ডুবোজাহাজ?
প্রতিরক্ষায় ভারতের ‘নিউ ক্লিয়ার ট্রায়াড’ বা স্থল-জল-আকাশ তিন পথেই পরমাণু প্রত্যাঘাতের ক্ষমতাকে আরও মজবুত করল অরিদমন। এর বিশেষত্বগুলি হলো:
- মিসাইল ক্ষমতা: এটি এক সঙ্গে আটটি ৩,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার কে-৪ (K-4) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।
- বিকল্প শক্তি: স্বল্প পাল্লার ক্ষেত্রে এটি ২৪টি ৭৬০ কিলোমিটার পাল্লার কে-১৫ (সাগরিকা) মিসাইল নিয়েও হামলা চালাতে পারে।
- অস্ত্রের দ্বিগুণ সক্ষমতা: আগের অরিহন্ত বা অরিঘাতের তুলনায় অরিদমনের অস্ত্র বহনের ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ।
গোপন অথচ বজ্রকঠিন প্রস্তুতি
কৌশলগত কারণেই নৌসেনার পক্ষ থেকে এই অন্তর্ভুক্তি নিয়ে খুব বেশি ঢাকঢোল পেটানো হয়নি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সামাজিক মাধ্যমে তাঁর উচ্ছ্বাস চেপে রাখেননি। তিনি লিখেছেন, “এটি শুধু শব্দ নয়, এটি শক্তি— অরিদমন!”
প্রজেক্ট ৭৫(১) এবং আগামীর লক্ষ্য
আইএনএস অরিদমন তৈরি করা হয়েছে ‘প্রজেক্ট ৭৫(১)’ কর্মসূচির আওতায়। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তার মোকাবিলায় ভারত যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে, এটি তারই অংশ। আগামী দিনে ‘প্রজেক্ট ৭৬’-এর অধীনে আরও ১২টি অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত করার নীল নকশা তৈরি রয়েছে।২০১৬-তে অরিহন্ত এবং ২০২৪-এর অগস্টে অরিঘাতের পর, অরিদমনের অন্তর্ভুক্তি কার্যত সমরাস্ত্রের নিরিখে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে আরও কয়েক কদম এগিয়ে দিল।














