উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বুথের ভেতরে ও বাইরে কড়া নজরদারি চালাতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানান, এবার বুথের পাহারায় থাকছে ‘এআই’ প্রযুক্তি (AI in Elections)। কন্ট্রোল রুমে বসে মাইক্রো অবজার্ভারেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রতিটি বুথের খুঁটিনাটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে এক জনও বেশি লোক বুথে প্রবেশ করলে বা কেউ ইভিএম-এর সামনে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা চলে যাবে আধিকারিকদের কাছে।
কীভাবে কাজ করবে এই এআই প্রযুক্তি?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বুথের ভেতর ও বাইরে ওয়েবক্যাম বসানো থাকবে। এআই প্রযুক্তি ক্যামেরার সামনে থাকা প্রতিটি মানুষকে একটি ‘কাল্পনিক আয়তক্ষেত্র’ দিয়ে চিহ্নিত বা মার্ক করবে।
- অতিরিক্ত সদস্য শনাক্তকরণ: যদি কোনো বুথে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও এজেন্ট মিলিয়ে নির্ধারিত ১০ জনের জায়গায় ১১ জন উপস্থিত থাকেন, তবে কন্ট্রোল রুমের স্ক্রিনটি সঙ্গে সঙ্গে লাল হয়ে যাবে।
- তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা: স্ক্রিনে ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারের ফোন নম্বর ভেসে উঠবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি ফোন করে জানতে চাওয়া হবে কেন অতিরিক্ত লোক বুথে ঢুকেছেন।
- ইভিএম-এ নজরদারি: কেউ যদি ইভিএম-এর সামনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি (ধরা যাক ২ মিনিটের বেশি) দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে এআই তাঁকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল পাঠাবে।
সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমের প্রস্তুতি
নজরদারির জন্য একটি বিশাল সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে যেখানে প্রায় ২০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার কাজ করবেন।
- সেখানে ৭২টি বড় স্ক্রিন থাকবে বুথের ভেতরের ছবি দেখার জন্য।
- আরও ১৮টি স্ক্রিনে দেখা যাবে এসএসটি (SST) এবং এফএসটি (FST)-র গাড়িতে বসানো ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ।
- একসঙ্গে ৫০০টি বুথের ছবি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য ১০টি বিশেষ টেলিফোন লাইন ও টোল-ফ্রি নম্বর থাকবে।
জিপিএস ও ফ্লাইং স্কোয়াড
কমিশনের নজরদারি গাড়িগুলির মাথায় বসানো থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, যা কন্ট্রোল রুম থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের গাড়িগুলিতে জিপিএস (GPS) প্রযুক্তি লাগানো হয়েছে। এর ফলে কন্ট্রোল রুমে বসেই বোঝা যাবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গাড়িগুলি টহল দিচ্ছে কি না।
প্রযুক্তির এই সাঁড়াশি আক্রমণে এবার বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের মতো ঘটনা রুখে দিয়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়াই কমিশনের মূল লক্ষ্য।














