কম সময়ে লাভবান হতে চাইলে এই জনপ্রিয় মাশরুম চাষ করুন

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Bangla News Dunia, সারদা দে :- অনেক ধরণের ছত্রাকের মধ্যে, সবচেয়ে পুষ্টিকর ভোজ্য ছত্রাক হল মাশরুম।   সাম্প্রতিককালে মাশরুমের  চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   এটি এমন একটি খাদ্য যার  পুষ্টির মান  প্রায় মাংসের সমান। ক্যালরি কম থাকায় এটি হৃদরোগীদের খাবার হিসেবে খুবই ভালো। এছাড়া রক্তশূন্যতা বা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বা শিশুদের হাড় ও দাঁতের বৃদ্ধির জন্য মাশরুম খুবই উপকারী। বর্তমানে মাশরুম চাষে কর্মসংস্থান হচ্ছে অনেক।  বেকার যুবক, গ্রামীণ অর্থনীতিরও উন্নয়ন হচ্ছে এর ফলে।  এই মাশরুম চাষের সুফল কৃষকরাও  ঘরে তুলতে পাচ্ছেন ।

 

আমাদের দেশে মূলত তিন ধরনের মাশরুমের চাষ হয়- বোতাম, পয়াল, ঝিনুক। ঝিনুক মাশরুম সহজেই বাড়িতে চাষ করা যায়। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে মাশরুম চাষের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। গ্রীষ্মকাল ছাড়া প্রায় সারা বছরই এই মাশরুম চাষ করা যায়। তবে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে এটি চাষ করা ভালো। সাত থেকে আট মাস শুকিয়ে রাখতে পারেন।

 

loan

 

দেখে নিন পলিথিন ব্যাগে কিভাবে করবেন মাশরুম চাষ 

এভাবে মাশরুম চাষ করতে বিশেষ ধরনের পলিথিন ব্যাগ লাগে। পলিথিন ক্যারিব্যাগের মতো, তবে এর দুটো মুখই খোলা রাখতে হবে ।  পলিথিনের নিচের অংশ  দড়ি দিয়ে বেঁধে এতে  খড় চাপা দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে খড় হতে  হবে ধান বা গমের । খড়গুলিকে ২-৩ সেন্টিমিটার আকারে কেটে আগের রাতে  ব্যাভিস্টিন মেশানো  জলে  ভিজিয়ে রাখতে হবে (প্রতি লিটারে এক গ্রাম ব্যাভিস্টিন) । ব্যাভিস্টিন খড়ের জীবাণু প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। পরের দিন ব্যাভিস্টিন ভেজানো খড় ১ ঘণ্টা সিদ্ধ করতে হবে। এটি খড়কে সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত করবে।

আরো পড়ুন : পোল্ট্রি শিল্পে অল্প বিনিয়োগে বেশি লাভ চান ? পালন করুন বিশেষ প্রজাতির মুরগি

এক লিটার পানিতে ৫ গ্রাম চুন এবং ২ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে খড় ১ রাত ভিজিয়ে রাখুন। এতে দ্বিতীয় দিন থেকে খড়কে আর সেদ্ধ করতে হবে না।  ভেজা খড় ঝুড়িতে রেখে দিলে অতিরিক্ত জল  বের হয়ে যাবে এবং ক্লোরিনের গন্ধও চলে যাবে। তারপর একটি পলিথিন ব্যাগে ৬ ইঞ্চি পুরু খড়ের স্তর লাগিয়ে প্রয়োজনমতো বীজ ছড়িয়ে দিন। এই বীজের উপর ৪ ইঞ্চি পুরু খড়ের স্তর দেওয়ার পর আবার বীজ বপন করতে হবে। এভাবে কয়েক স্তর তৈরি করার পর শেষে এক ইঞ্চি পুরু খড় বীজের স্তরে বিছিয়ে দিতে হবে। সাজানোর পর পলিথিন আবার দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়।

এইভাবে তৈরি পলিথিন সিলিন্ডারকে কাঠের টেবিল বা এ জাতীয় কিছু একটা ছায়াময় জায়গায় রাখতে হবে যার চারপাশে এবং নীচে কয়েকটি ছিদ্র রয়েছে। ১৮-১৯ দিন পর যখন কুঁড়ি ফুটতে শুরু করে, তখন উপরের পলিথিনের আস্তরণটি সরিয়ে ফেলতে হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত খড় লেগে থাকবে। এর ফলে  ফসল ২ দিনের মধ্যে  কাটার জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে । ফসল তুলে  রেখে দিলে কয়েকদিন পর আবার মাশরুম বের হবে। এসময় ভিতরের খড় শুকিয়ে গেলে মাঝে মাঝে জল স্প্রে  করতে হবে। নিয়মিত জল  দিলে ১০-১২ দিনের ব্যবধানে ৩ বার ফসল তোলা যায়।

বাঁশের ট্রেতে মাশরুম চাষ:

চাষ পদ্ধতি আগের মতই আছে এক্ষেত্রে শুধু পাত্র ভিন্ন। এই পদ্ধতিতে  ভেজা খড়ের জল  ঝরানোর পর বিশুদ্ধ করে বাঁশের ট্রেতে ২ ইঞ্চি পুরু করে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর ওপর হালকাভাবে বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার পর আবার ১ ইঞ্চি পুরু খড়ের স্তর দিতে হবে। তারপর হালকা বীজ ছড়িয়ে ১ ইঞ্চি খড়ের স্তর আবার লাগান। শেষ খড় বিছিয়ে দেওয়ার পর কালো পলিথিনের চাদর দিয়ে ঢেকে ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখতে হবে। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে হালকা জল  স্প্রে করুন। ১৮-২০ দিন পর মাশরুমের কুঁড়ি বেরোতে শুরু করলে উপরের পলিথিন শীটটি সরিয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিতে 2 দিনের মধ্যে  ফসল কাটা যায়।

আরো পড়ুন :হাইব্রিড করলা চাষের সম্পূর্ণ পদ্ধতি জেনে নিন

রোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি:

মাশরুম চাষে অনেক আগাছা ও কীটপতঙ্গের সমস্যা দেখা যায়। একবার আক্রমণ করলে তা দমন করা খুবই কঠিন। তাই পরিষ্কার জায়গায় চাষ করতে হবে।  বাড়িতে জন্মানো মাশরুম কীটপতঙ্গ দ্বারা বিষাক্ত হতে পারে। কিছু গরম পানিতে বিষাক্ত ছত্রাক ছেড়ে কিছুক্ষণ পর রান্নার চামচ দিয়ে স্পর্শ করলে চামচের ওপর কালো আবরণ পড়ে। এটি ভোজ্য মাশরুমের ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া  যায় না ।

এছাড়াও  গ্রাম্য টোটকা অবলম্বন করতে পারেন । ক্ষুধার্ত মুরগি যদি এই ছত্রাক না খায়  তাহলে  বুঝতে হবে তারা বিষাক্ত ছত্রাক। এছাড়াও,  যেগুলির রঙ উজ্জ্বল,  তিক্ত স্বাদ এবং একটি খারাপ গন্ধ সেই ছত্রাকগুলি   বিষাক্ত। দুধে বিষাক্ত ছত্রাক যোগ করলে দুধ ফেটে যায় বা জমে যায়।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন