Aadhaar Address Update: ভারতের প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্য আধার কার্ড বর্তমানে একটি অপরিহার্য নথিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, সিম কার্ড কেনা কিংবা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া, সবক্ষেত্রেই আধারের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে অনেক সময় জীবিকার প্রয়োজনে বা অন্য কোনো কারণে আমাদের বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়। তখন আধার কার্ডে পুরনো ঠিকানা থাকলে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আগে এই ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য আধার কেন্দ্রে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো, কিন্তু এখন আর সেই ঝক্কি পোহাতে হবে না।
ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা UIDAI সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এখন অনলাইনেই ঠিকানা পরিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেই আপনি এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই আধারের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ ওটিপি ভেরিফিকেশন ছাড়া এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের ধাপসমূহ
বাড়িতে বসে আধারের ঠিকানা আপডেট করার পদ্ধতিটি অত্যন্ত সরল এবং সময়সাপেক্ষ নয়। এর জন্য আপনাকে UIDAI-এর অফিশিয়াল সেলফ সার্ভিস পোর্টালে যেতে হবে। নিচে বিস্তারিত পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
১. প্রথমে UIDAI-এর পোর্টালে গিয়ে আপনার ১২ সংখ্যার আধার নম্বর দিয়ে লগ-ইন করতে হবে।
২. এরপর আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে, সেটি দিয়ে ভেরিফাই করুন।
৩. লগ-ইন করার পর ‘অ্যাড্রেস আপডেট’ বা ঠিকানা পরিবর্তনের অপশনটি বেছে নিন।
৪. সেখানে আপনার নতুন ঠিকানার বিস্তারিত তথ্য নির্ভুলভাবে টাইপ করুন।
৫. সবশেষে, আপনার নতুন ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে একটি বৈধ নথি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা
ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য UIDAI বেশ কিছু নথিপত্রকে মান্যতা দেয়। আপনি নিচের টেবিলে দেওয়া যেকোনো একটি নথি ব্যবহার করে আপনার আবেদন জানাতে পারেন:
| নথির ধরন | মন্তব্য |
|---|---|
| ইলেকট্রিক বা জলের বিল | ৩ মাসের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না |
| ব্যাঙ্ক পাসবুক বা স্টেটমেন্ট | ঠিকানা ও ছবি স্পষ্ট থাকতে হবে |
| পাসপোর্ট | মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে চলবে না |
| ভাড়ার চুক্তিপত্র (Rent Agreement) | বাড়ির মালিকের স্বাক্ষরসহ হতে হবে |
| ভোটার আইডি কার্ড | সরকার দ্বারা ইস্যুকৃত হতে হবে |
| প্রপার্টি ট্যাক্সের রসিদ | ১ বছরের মধ্যে হতে হবে |
কত দিনে আপডেট হবে?
আবেদন জমা দেওয়ার পর, UIDAI আপনার দেওয়া তথ্যাদি যাচাই করে দেখবে। সাধারণত এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় ৭ থেকে ১০ কর্মদিবস সময় লাগে। আবেদন সম্পূর্ণ হলে আপনাকে একটি URN বা আপডেট রিকোয়েস্ট নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বরটি ব্যবহার করে আপনি মাঝেমধ্যেই আপনার আবেদনের স্থিতি বা স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। একবার আবেদন অনুমোদিত হয়ে গেলে, আপনি পোর্টাল থেকেই আপনার নতুন ই-আধার কার্ডটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এই অনলাইন পরিষেবাটি সাধারণ মানুষের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি সরকারি কাজে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করছে।














